সালাহ যখন কেঁদে কেঁদে মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন হাসছিলেন রামোস!

|

অনেকে বলছেন, রিয়াল মাদ্রিদের সার্জিও রামোস ইচ্ছা করেই মোহাম্মদ সালাহর হাত ধরে রেখেছিলেন। এবং এ কারণেই উল্টে পড়ে যান লিভারপুল তারকা। নিজের হাত রামোসের হাতে আটকে থাকায় শরীরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বেকায়দা পড়ে গিয়ে কাঁধ নড়ে যায় সালাহ। প্রথমে চেষ্টা করেছিলেন চোটকে পাত্তা না দিয়ে খেলে যাওয়ার।

কিন্তু চিকিৎসকরা মাঠ ছাড়ার সাথে সাথেই সালাহ আবারও মাঠে পড়ে যান। ব্যথায় কোঁকড়াতে থাকেন। গ্যালারিজুড়ে তখন নীরবতা। সবাই আন্দাজ করে নিয়েছেন অন্তত এই ম্যাচে আর নামতে পারছেন না মিশরীয় এই সেনসেশন।

সালাহ হয়তো আরও ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন তখনই। সামনে স্বপ্নের বিশ্বকাপ। সেটিও মিস হয় কিনা! এমনতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে দলকে শিরোপা এনে দেয়ার সুযোগ, অথচ তিনি মাঠে থাকতে পারছেন না।

অন্যদিকে দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ খেলাও কি বাদ যাবে? এত ভাবনায় বিধ্বস্ত তরুণটি যখন মাঠ থেকে বের হচ্ছিলেন কেঁদে কেঁদে, তখন একটু দূরেই গাল চওড়া করে হাসছিলেন ‘অভিযুক্ত’ রামোস! বিটি স্পোর্টের ভিডিও ফুটেজে এ দৃশ্য ধরা পড়েছে। ব্রিটেনের দ্যা মেট্রো পত্রিকা এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সালাহ যখন চোখ মুছতে মুছতে মাঠের বাইরে পা রাখছেন তখন সহকারী ফেরারির সাথে কী যেন কথা বলে সালাহর বেরিয়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হাসছেন রামোস। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে টুইটারে।

এদিকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা বলেছেন, লম্বা সময় বিশ্রাম ও চিকিৎসা নিতে হবে সালাহকে। ব্রিটেনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকা জানিয়েছে, মোহাম্মদ সালাহর কাধে যে ধরনের চোট লেগেছে তা সারতে সাধারণত ১২-১৬ সপ্তাহ লাগে। তবে বিশ্বমানের চিকিৎসার কারণে হয়তো সালাহর ক্ষেত্রে অতোটা সময় লাগবে না।

কিন্তু আগামী দুই সপ্তাহ তাকে বিশ্রামে রাখা হবে বলে জানিয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট। বিশ্বকাপ শুরুর দ্বিতীয় দিনে মিশরের খেলা রয়েছে। সে হিসেবে খেলার আগে তিন সপ্তাহ সময় আছে সালাহর সামনে। এই সময়ের মধ্যে পুরোপুরি সেরে ওঠতে পারবেন কিনা সেটােই এখন বড় প্রশ্ন।

এদিকে ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে লিভারপুল কোচও শুনিয়েছেন হতাশার বাণী। তিনি বলেন, সালাহর আঘাত গুরুতর৷ সত্যিই খারাপভাবে চোট পেয়েছে ও৷ এক্স-রে করানোর জন্য হাসপাতালে রয়েছে সালাহ৷ ওকে দেখেও মোটেও ভালো লাগছে না৷ মনে হচ্ছে হয় কাঁধ ভেঙেছে৷ আমরা একজন দারুণ খেলোয়াড়কে হারালাম৷ হয়ত বিশ্বকাপের আগে মিশর তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে হারাল৷

এরপরও সালাহর সুস্থতার ব্যাপারে আশা বাঁচিয়ে রেখে ক্লপ বলেন, আমি এখনও আশা রাখি এসব যাতে কোনওটাই না হয়৷

গত রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল ম্যাচটিতে প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে রিয়াল ডিফেন্ডার রামোসেকে কাটিয়ে বল বের করে নিতে চান সালাহ৷ এই সময় রামোসের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে কাঁধে চোট পেয়ে মাঠে শুয়ে পড়েন মিশরীয় ফরোয়ার্ড৷

মাঠে চিকিৎসক এসে চেষ্টা করেন মিশরের ‘মেসি’কে সুস্থ করার৷ চিকিৎসক মাঠ ছাড়ার পর খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সালাহ৷ কিন্তু চোট গুরুতর হওয়ার জন্য মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ইংলিশ প্রিমিয়র লিগের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার৷









Leave a reply