খুনের পর লাশ গুমের মামলা, ৬ মাস পর ফিরলেন নিখোঁজ ব্যক্তি

|

স্টাফ রির্পোটার, নেত্রকোণা:

নেত্রকোণায় বড়ভাইকে হত্যা করে লাশ গুম করার অপরাধে ভাবি ও তার বাবাকে আসামি করে দায়েরকৃত মামলায় ভিকটিমকে (মৃত ব্যক্তি) জীবিত উদ্ধার করেছে সিআইডি। সোমবার (৪ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার সাইয়েদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন শাহজাহানের স্ত্রী মিলি আক্তার (২২) ও শ্বশুর ফজলু মিয়া (৫০)।

উদ্ধার হওয়া জীবিত শাহজাহান কবির নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার বাদে আমতৈল গ্রামের মৃত ইন্নছ আলীর ছেলে। তাকে জামালপুর জেলার নুরুন্দি শৈলেরকান্দা পীরের মাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করে সিআইডি পুলিশের একটি দল। মামলার বাদী ছিলেন ভিকটিমের (শাহজাহান) ছোট ভাই আবুল খায়ের। তিনি তার ভাইকে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগ এনে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে ভাই নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডিও করেছিলেন তিনি।

সিআইডি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলাটি দায়রের পর আদালতের নির্দেশের চলতি বছরের ১ মার্চ রাতে হত্যা মামলাটি থানায় রেকর্ডভুক্ত করা হয়। ওই দিনই আবুল খায়ের তার ভাবি ও তাওই (ভাবির বাবা) বিরুদ্ধে শাহজাহানকে হত্যা ও গুম করার অপরাধ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার বর্ণনামতে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সবসময় কথা কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হতো। এসব বিষয় নিয়ে মিলি আক্তার রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যান। গত ১৫ জানুয়ারি বিকেলে মিলি আক্তারের ফোনে পেয়ে শাহজাহান তার শ্বশুরবাড়ি যাবেন বলে বাড়ি থেকে বের হন। শ্বশুরবাড়িতে রাত্রীযাপন শেষে পরদিন আলী ওসমানকে (বাদীর ভাই) ফোনে ভাবি জানান, তার স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে প্রথমে নিখোঁজের জিডি ও পরে আদালতে হত্যা মামলা করেন আবুল খায়ের।

এ মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী ইসলাম খান বলেন, আমার ক্লায়েন্ট যাতে সম্পত্তিতে ভাগ বসাতে না পারে এ জন্য ফাঁসাতে বাদীপক্ষ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নাটক সাজিয়েছেন। বাদীপক্ষের লোকজনসহ শাহজাহান নিজেও জানেন তার স্ত্রী ও শ্বশুরকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। জীবিত জেনেও তারা ক্লায়েন্টকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। গত ৯ জুন মামলার তারিখে আমার ক্লায়েন্ট আদালতে হাজিরাও দিয়েছেন। আগামী তারিখে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে তা নির্ধারণে কথা জানান তিনি।

নেত্রকোণা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার সাইয়েদ আহমেদ জানান, মামলাটির তদন্তভার সিআইডি পাওয়ার পর বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে শাহজাহান জামালপুরে অবস্থান করছেন। গত শুক্রবার শৈলাকান্দা পীরের মাজার এলাকা থেকে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হই। শাহজাহান আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি পরিবারে অশান্তি ও কলহের কারণে মানসিক শান্তির জন্য পরিবারকে না জানিয়ে স্বেচ্ছায় সেখানে চলে গেছেন বলে জানান।

/এডব্লিউ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply