দাফনের এক সপ্তাহ পর আবার লাশ উত্তোলন

|

স্টাফ রিপোর্টার,মানিকগঞ্জ

দাফনের এক সপ্তাহ পর শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্র নাজমুল হাসান সৌরভের(১৮) মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য রোববার কবর থেকে উত্তোলন করা হবে। তাকে হত্যা করা হয়েছে সন্দেহে থানায় মামলা দায়ের করা হলে এই সিন্ধান্ত নেয় পুলিশ।

গত ১৯ মে ঢাকার আদাবরে কলেজ হোস্টেলে মৃত্যু হয় সৌরভের। বিদ্যুতায়িত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। ওই দিনই সৌরভকে ময়না তদন্ত ছাড়াই গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের বনগ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সৌরভের বাবা আমজাদ হোসেন মামলায় উল্লেখ করেছেন,তার ছেলে আদাবর থানাধীন মোহনপুর এলাকায় আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের ছাত্র হোস্টেলে থাকতো। গত ১৯ মে ভোর রাতে হোস্টেল সুপারভাইজার মো:নয়ন তাকে ফোন করে জানায়, সৌরভ বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত হয়েছেন। তাকে শহীদ সোহরওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে সকালে তিনি হাসপাতালে গেলে হাসপাতাল মর্গের টলির ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা সৌরভের লাশ দেখতে পান। সেখানে হোস্টেল সুপার নয়ন, শিক্ষক ও তার কয়েকজন সহপাঠিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পরামর্শে সৌরভের লাশ মানিকগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে এনে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হয়।

সৌরভের বাবা মামলায় আরো উল্লেখ করেন, সৌরভের কাপড়-চোপড় আনতে হোস্টেলে গেলে তার রুমের সামনে রক্তের দাগ দেখতে পান। দাফনের জন্য গোসল করানোর সময়ও শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহৃ দেখা গেছে। তাই তিনি ধারণা করছেন হোস্টেল কর্তৃপক্ষ কিম্বা তার সহপাঠিরা সৌরভকে হত্যা করেছেন।

সৌরভের বোন উর্মি হোসেন জানান, তার ভাই খুবই শান্ত প্রকৃতির ছিলো। ঘটনার ২/৩ দিন আগে পুলিশী ঝামেলায় পড়েছে জানিয়ে বাড়ি থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেয়। পরে মাকে ফোনে জানায় হোস্টেলের কয়েকজন তার টাকা নিয়েছে। রোজার পর তাদের একটা ব্যবস্থা করবে সে।

তিনি জানান, মৃত্যুর পর সৌরভের পায়ে ধূলাবালি দেখা গেছে। বুকে আঘাতের চিহু এবং পেট ফুলেছিলো। এ থেকেই ধারণা করা হয় তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ভাই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আদাবর থানার এসআই মাইকেল জানান, সৌরভকে হত্যা করার অভিযোগে তার বাবা মো:আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। রোববার সকালে কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করা হবে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।









Leave a reply