আবারও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে যা করা হচ্ছে

|

আবারও দাম বাড়ছে জ্বালানি তেলের। লিটারে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি চায় সরকার। অস্থির বিশ্ববাজার আর দৈনিক শত কোটি টাকা লোকসানের কারণে দাম বাড়াতে তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। তবে দাম বাড়ানোর আগে পরিবহন খাতে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করে আগে থেকেই ভাড়ার বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করছে জ্বালানি বিভাগ। তবে গণশুনানি ছাড়া নির্বাহী আদেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অবৈধ বলছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন, ক্যাব।

৮০/৮৫ ডলারের প্রতি ব্যারেল তেল আমদানিতে এখন লাগছে ১৭০ ডলারও। এ অবস্থায় অকটেন, পেট্রোল আর ডিজেল বিক্রি করে প্রতিদিন শত কোটি টাকা লোকসান গুনছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, বিপিসি। এ অবস্থা চলতে থাকলে আর দুই তিনমাস পর আমদানির সক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানালেন, এমন অবস্থায় দাম বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়, তাতে আছে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও।

আগের অভিজ্ঞতা বলে, তেলের দাম বাড়ার বহুমাত্রিক প্রভাব পড়ে পণ্য ও গণপরিবহণে। তাই এবার আগে থেকেই গণপরিবহণ মালিকদের সাথে তেলের দাম কত বাড়লে, ভাড়া কী হবে, তা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে জ্বালানি বিভাগ। হিসেব নিকাশ বলছে, লিটারে ৩০ টাকা দাম বাড়লে প্রতি কিলেমিটার ভাড়া হবে ২ টাকা ৩৯ পয়সা আর দূরপাল্লার যানে ১ টাকা ৯৭ পয়সা। এসব বিষয় আরও চূড়ান্ত করার পরই বাড়বে তেলের দাম।

তবে পরিবহণ মালিকদের ওপর আইনি কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় জ্বালানি বিভাগের এই উদ্যোগ সফল হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলমের। আর জ্বালানি তেলের দাম কেন এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে পাশ কাটিয়ে সরকার বাড়ায় তা নিয়ে ভোক্তাদের অসন্তোষের কথাও জানালেন তিনি।

এর আগেও অবশ্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছিল বিআরটিএ। যদিও বাস্তবে ভোক্তাদের ভাড়া গুনতে হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি।

/এডব্লিউ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply