মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধি; দু’কূল রক্ষাই নতুন মুদ্রানীতির বড় চ্যালেঞ্জ

|

একদিকে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন। এই দুইয়ের মাঝে সমন্বয় করে ২০২২-২৩ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বিদায়ী গভর্নরের জন্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুদ্রানীতিতে সব কূল রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। টাকার যোগান এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন আছে অনেকের।

করোনা সংকট কাটতে না কাটতেই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ফলে টালমাটাল হয়ে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যসহ বেশিরভাগ পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। ফল হিসেবে দেশেও বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশে; যা গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অনিশ্চয়তা কাটেনি মুদ্রা বিনিময়েও। ডলার লেনদেন হচ্ছে একশ’ টাকার আশেপাশে। সংকটকালে টিকে থাকতে বাড়াতে হবে কর্মসংস্থান, আর সে জন্য বিনিয়োগ দরকার। ব্যাংকাররা বলছেন, সংকট সামাল দিতে সবদিকে সমান গুরুত্ব থাকতে হবে এবারের মুদ্রানীতিতে।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে তা সামাল দেয়ার জন্য এবারের যে মুদ্রানীতি হবে, তা টানা ৩০-৪০ বছরের মুদ্রানীতির চেয়ে একদমই আলাদা। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে মুদ্রা সরবরাহের ম্যানেজমেন্ট আগের মতো সহজ নেই আর।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস্ উল ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এখানে যেমন সম্প্রসারণের প্রয়োজন আছে, মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করাও দরকার। দুই কূল রক্ষা করেই অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যপূরণেই টাকার যোগান সমন্বয় করা হয় মুদ্রানীতিতে। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে খুব বেশি ভূমিকা থাকে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তবে এবারের মুদ্রানীতিতে হিসাব মেলানো কঠিন হবে। বিআইবিএম’র সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমাকে মূল্যস্ফীতির হারও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, অন্যদিকে বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে গেলে তো সুদের হার কমাতে হবে। আবার মূল্যস্ফীতি কমাতে গেলে সুদের হার বাড়াতে হয়। এটা তাই আমার জন্য উভয় সংকট। এবার যে মুদ্রানীতি করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তা খুবই জটিল হবে। ভারসাম্য বজায় রাখাটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য কিছুটা কঠিনই হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানাচ্ছে, মূল্যস্ফীতির সমস্যা শুধু বাংলাদেশের না, এটা এখন আন্তর্জাতিক সমস্যা। চলতি হিসাবে লেনদেনে ভারসাম্যহীনতা এবং ডলারের দাম বৃদ্ধিও বড় চিন্তার বিষয়। তবে এ সংকট সামাল দেয়ার চেষ্টা থাকবে এবারের মুদ্রানীতিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. হাবিবুর রহমান বলেন, একদিকে যেমন চাহিদাকে কিছুটা প্রশমিত করা হবে, পাশাপাশি সরবরাহ সাইট যেন আরেকটু গতি পায় সেদিকেও নজর রাখা হবে। কৃষি, এসএমই’সহ রফতানিমুখী শিল্পের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেদিকেও দৃষ্টি রাখা হবে।

পুরোপুরি সংকোচন বা সম্প্রসারণমূলক নয়, বরং এবারের মুদ্রানীতি হবে সতর্কতামূলক। ড. হাবিবুর রহমান বলেন, পুরোপুরি সংকোচনমূলক হবে না মুদ্রানীতি; উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডকে যাতে নিরুৎসাহিত না করা হয় সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। মুদ্রানীতিকে তাই সংকোচন বা সম্প্রসারণমূলক, কোনোটিই বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: প্রকল্প সংশোধনে বাড়ছে কাঠামো নির্মাণের ব্যয়: সিপিডি

/এম ই





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply