বাল্যবন্ধুকে হত্যা করে ফোন ছিনতাই, বিক্রির টাকা দিয়ে বান্ধবীর সাথে হোটেলে কিশোর

|

ছবি: সংগৃহীত।

বগুড়া ব্যুরো:

একটি স্মার্টফোন হাতিয়ে নেয়ার জন্যই বগুড়ার শাজাহানপুরে সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্র নওফেল শেখকে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে হত্যা করে তারই বাল্যবন্ধু আরেক কিশোর। নওফেলকে হত্যা করে সেই স্মার্টফোন বিক্রির টাকা দিয়ে আটককৃত কিশোর তার বান্ধবীর সাথে একটি আবাসিক রুম ভাড়া নিয়ে সময় কাটায়। মঙ্গলবার (২৮ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার সুদীপ চক্রবর্ত্তী এসব তথ্য জানান। এরই মধ্যে ওই কিশোর ও তার বান্ধবীকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (১৭ জুন) রাতে ঢাকার টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকা থেকে নওফেলের ওই বন্ধুকে আটকের পর এই হত্যা রহস্যের জট খোলে। অভিযুক্ত কিশোরের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুরে হলেও সে ঢাকায় তার ভাইয়ের লন্ড্রিতে কাজ করতো।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২০ জুন পুলিশ শাজাহানপুর উপজেলার দাড়িগাছা এলাকার একটি বাগান থেকে ওই এলাকার স্কুলছাত্র নওফেলের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একই এলাকার বাসিন্দা নওফেলের বাল্যবন্ধু ওই কিশোরকে (১৬) ঢাকা থেকে আটক করা হয়।

আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর জানায়, মাস দুয়েক আগে নওফেলের বাবা তাকে একটি স্মার্টফোন কিনে দেন। নওফেল সেটি তাকে দেখানোর পর থেকে তা কীভাবে হাতিয়ে নেয়া যায় সেই পরিকল্পনা করতে শুরু করে সে। গত ১৮ জুন নওফেলের জন্মদিন থাকায় অভিযুক্ত কিশোর তাকে ধূমপান করানোর কথা বলে এলাকার একটি বাগানে ঢোকে। সেখানে ধূমপান করার এক পর্যায়ে সে নওফেলের গলায় মাফলার পেঁচিয়ে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় ওই কিশোর। এ ঘটনার দু’দিন পর ঘটনাস্থল থেকে নওফেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, বেলা ১১টা নাগাদ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর দুপুরে ওই কিশোর শেরপুর থেকে তার বান্ধবী জাকিয়া সুলতানা বৃষ্টিকে (২০) নিয়ে শহরের সাতমাথায় এলাকায় গিয়ে নওফেলের মোবাইলফোনটি ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। এরপর তারা দু’জনে মিলে ওই টাকায় একটি আবাসিক হোটেলের রুম ভাড়া নিয়ে কিছু সময় কাটানোর পর বাড়ি ফিরে যায়। সোমবার রাতে ঢাকা থেকে ওই কিশোর এবং বগুড়া থেকে তার বান্ধবী বৃষ্টিকে আটক করেছে পুলিশ।

এসজেড/


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply