কুড়িগ্রামে চুরির অপবাদ দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে যুবককে নির্যাতন

|

স্টাফ করেসপনডেন্ট, কুড়িগ্রাম:

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে গাছের সাথে ঝুলিয়ে বেঁধে শহিদুল ইসলাম (৩৪) নামে এক যুবককে নির্যাতন করা হয়েছে।

উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ত্রিপল নাইনে (৯৯৯) ফোন পেয়ে রাজারহাট পুলিশ আহত যুবককে উদ্ধার করলেও কাউকে আটক করেনি। আহত যুবক বর্তমানে রাজারহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। আহত যুবক ওই গ্রামের মৃত বক্তার আলীর ছেলে।

গত বুধবার (২২ জুন) দুপুরে ঘটনাটি ঘটলেও ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ পেলে সকলের দৃষ্টিগোচর হয়।

ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম জানান, আমি দিন মজুরের কাজ করে মায়ের সাথে থাকি। যা আয় হয় তা দিয়ে দু’জনের খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে। বয়স হবার কারণে মায়ের ব্রেইনের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। একটানা বৃষ্টির কারণে বাড়িতে পানি উঠেছে। বুধবার ঘরে কোনো খাবার ছিল না। ওই দিন দুপুরে বিজলির বাজারের পাশে একজনের বাড়িতে খড়ি ফাটার কাজ পাই। আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে ওই বাজারে গিয়ে একটা দোকানে বাকিতেই খুরমা খেতে যাই।
এ সময় আউয়াল, দুলাল, মানিক এবং আলম এসে আমাকে পাঞ্জা করে ধরে বলে তুই ১১ হাজার ৫০৪ টাকা বাড়ি থেকে চুরি করে নিছিস। এই বলে ওরা চার ভাই আমাকে তাদের বাড়ির ওঠানে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করে। এ সময় আব্দুল বাতেন মেম্বার উপস্থিত ছিলেন। তিনি বারবার নিষেধ করার পরেও তারা আমাকে ছেড়ে দেয়নি। পরে কে বা কারা ৯৯৯ ফোন দিলে রাজারহাট থানার পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক কিছু ওষুধ কিনে দেয় কিন্তু পরে আর তারা আমার কোনো খোঁজ নেয়নি।

অভিযুক্ত আউয়াল বলেন, আমার বড় ভাই দুলালের বাড়ি থেকে ১১ হাজার ৫৮০ টাকা হারিয়ে গেছে। আমরা নিজ চোখে দেখিনি। আমার ভাতিজি শহিদুলকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছেন। সেজন্যই তাকে ধরে এনে মারা হয়েছে। তবে ওভাবে মারধর করাটা ঠিক হয়নি। পুলিশের উপস্থিতিতেই বাতেন মেম্বার সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে পুলিশের নির্দেশে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি এবং চিকিৎসার খরচ দিচ্ছি।

এই বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন মেম্বার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি শহিদুলকে মারধর করে ছেড়ে দেয়া অবস্থায় দেখতে পাই। শহিদুল হাসপাতালে থাকায় এটা কোনো সমাধান হয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও কাউকে আটক করেনি।

ডিউটিরত চিকিৎসক ডা. তাসলিমা আক্তার বলেন, শহিদুল ইসলাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বাম হাতের একটি আঙ্গুল ভেঙ্গে গেছে। চিকিৎসা নিলেই সে সুস্থ হয়ে উঠবেন।

রাজারহাট থানার পুলিশ এসআই অনিল চন্দ্র রায় বলেন, ৯৯৯ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শহিদুলকে দড়ি খোলা অবস্থায় আমরা পাই। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তবে এখনও কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।

এই বিষয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজু সরকার বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। কেউ অভিযোগ করলে অবশ্যই জানতে পারতাম। এরপরেও আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।

ইউএইচ/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply