বিশ্ব গণমাধ্যমে পদ্মা সেতুর খবর

|

ছবি: সংগৃহীত।

বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়েছে। বর্ণিল উৎসবের মধ্য দিয়ে শনিবার (২৫ জুন) এ সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সেতু চালুর খবর বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে জায়গা করেছ নিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমেও।

মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েট প্রেস (এপি) ‘বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতুর উদ্বোধন’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার দেশের দীর্ঘতম সেতুর উদ্বোধন করেছেন। রাজনৈতিক সংঘাত আর দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে এই সেতু তৈরি করতে সময় লেগেছে আট বছর।
এপি’র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেতুটি জনসাধারণের জন্য রোববার খুলে দেয়া হবে। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার দূরত্ব কমবে ১০০ কিলোমিটার।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে ফ্রান্সভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, দুর্নীতির অভিযোগ, মানব বলির গুজব ছড়িয়ে পিটুনির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডসহ নানা ঘটন-অঘটনের পর শনিবার রাজধানী ঢাকার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ।

বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের এই প্রকল্পে কর্মকর্তাদের ঘুষের অভিযোগে কানাডিয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম এসএনসি-লাভালিনকে এক দশকের জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে দরপত্রে অংশ নেয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কানাডার প্রসিকিউটররা এই কোম্পানির নির্বাহীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাননি।

আরও বলা হয়, পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা বলি দিতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন গুজব ছড়িয়ে ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ৮ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ধরনের নানা ঘটনার পর বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের দীর্ঘদিনের এক স্বপ্নের দুয়ার খুলেছে শনিবার।

পদ্মা সেতু নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির করা সংবাদের শিরোনাম ‘বাংলাদেশের দীর্ঘতম রেল-সড়ক সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’। তাতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার দেশের দীর্ঘতম এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেছেন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সড়ক-রেল সেতুটি রাজধানী এবং অন্যান্য অঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সংযোগকারী পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে।

এনডিটিভি লিখেছে, বাংলাদেশের এই সেতুর উদ্বোধন অনেক তাৎপর্য বহন করে। অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও তা উড়িয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

দেশটির আরেক গণমাধ্যম ইন্ডিয়া ট্যুডে বলেছে, পদ্মা নদীর ওপর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার রেল-সড়ক সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশাল পরিবর্তনের গল্পের শুরু হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর এটি বাংলাদেশের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প।

এছাড়াও ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্থান টাইমস, আনন্দবাজার, দ্য হিন্দু, মধ্যপ্রাচ্যের গালফ নিউজ, খালিজ টাইমস, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশের বৃহত্তম পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

/এমএন





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply