সাপে কাটা যুবককে ওঝার ঝাড় ফুঁক, পরে মৃত্যু

|

তরিকুল ইসলাম হিমেল, ফরিদপুর

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ওঝা দিয়ে ঝাড় ফুঁক দেয়ার ১৭ ঘন্টা পর সাপে কাটা যুবক ফরহাদ মোল্যা (৩০) মারা গেছে। আজ ভোর রাত ৪ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোপালপুর চরের বাসিন্দা লালু মোল্যার ছোট ছেলে।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, সোমবার বেলা ১১ টার দিকে পার্শ্ববর্তী মাঠে গরু চরাতে গেলে সাপে কামড় দেয় ঐ যুবককে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা ঐ যুবককে প্রথমে আমীরের ব্রীজ এলাকায় এক ওঝাঁর বাড়িতে নিয়ে ঝার ফুক দেয়।

পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেও চিকিৎসা না করিয়েই ফিরিয়ে নিয়ে আসেন স্বজনরা। সেখান থেকে তাকে নিয়ে বাদুল্লা মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে রোগীর এক নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে পুনরায় বিভিন্ন ওঝাঁ দিয়ে চলে ঝাড় ফুঁক।

রাতে রোগীর কাছে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী মানিক শেখ (২৫) জানান, ভোর রাত ৪টার দিকে ফরহাদের শ্বাসকষ্ট বেরে যায় এবং কিছু সময় পর সে মারা যায়।

খবর পেয়ে সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এজিএম বাদল আমিন নিহতের বাড়িতে যান এবং তার পরিবারে প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

ঘটনাটি মর্মান্তিক ও দুঃখ জনক উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার বলেন, বর্তমানে আমাদের উপজেলা হাসপাতাল ছাড়াও চারটি ইউনিয়নের নয়টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিষাক্ত সাপে কামড়ানোর এ্যন্টি ডট ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রচারণাও চলছে। ওঝা দিয়ে দিয়ে ঝাড় ফুঁক না করে সাপে কামড়ানো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

উল্লেখ্য, ঘটনার দিন ওঝার বাড়িতে গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপস্থিত সাংবাদিকরা রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলে রোগীর স্বজনরা তাতে তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন ‘আমারা লোক মুখে শুনেছি এর আগে যে সকল সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে ইনজেকশন দিছে তারা মারা গেছে, আমার ছেলেরে আমরা ইনজেকশন দিতে দিমুনা’।

এ ব্যাপারে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাপে কামড়ানো রোগীকে হাসপাতালে আনার পর আমি চিকিৎসা দিতে গেলে স্বজনরা অস্বীকৃতি জানায়। রোগীর বিভিন্ন উপস্বর্গ, ক্ষতস্থান ও পূর্বের রোগীর অবস্থা দেখে ওই যুবককে বিষধর রাসেল ভাইপার কামড়িয়েছে বলে ধারণা যা স্থানীয় ভাবে চন্দ্রবোরা সাপ নামে পরিচিত।









Leave a reply