সন্তান কি মোটা হয়ে যাচ্ছে? সাবধান হোন এখনই

|

ছবি: সংগৃহীত।

বর্তমানে সবার জন্যই স্থূলতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনব্যবস্থা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণেই এই ধরনের সমস্যা ছড়িয়ে যাচ্ছে সবার মধ্যে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে আজকাল এটি বেশি লক্ষণীয়। অনেক শিশুই অকালে স্থূল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় বাবা-মা এনিয়ে খুব বেশি গুরুত্ব না দিলেও গবেষণা বলছে, বড় হলে এই ধরনের শিশুর ডিমনেসিয়ার সমস্যা হতে পারে। খবর দ্য ডেইলি মেইলের।

এ নিয়ে গবেষণা করেছেন মেলবোর্নের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। সম্প্রতি এ গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন ইন স্পোর্টসে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ১২০০ শিশুর ওপর চলেছে এই গবেষণা। ১৯৮৫ সাল থেকে ১ হাজার ২৪৪ জন শিশুকে নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। এরপর ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে গবেষণায় অংশ নেয়া সেসব শিশুদের বয়স ৪০ এর কোঠা পার হলে তাদের আবারও পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায় বেশিরভাগের মধ্যেই দেখা যায় ডিমনেসিয়ার লক্ষণ।

গবেষকরা বলছেন, শৈশবে যে শিশুদের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা আছে তাদের মধ্যবয়সের পর স্নায়ুরোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেওয়ায় আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। ছোটবেলায় খেলাধুলা বেশি করলে স্নায়ুর কার্যকারিতা ভালো হয়, মধ্যবয়সের পরও ভালো থাকে মস্তিষ্ক। তবে স্থূলতার কারণে এসব শিশু তেমন ছোটাছুটি বা খেলাধুলা করতে না পারায় এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় বেশি।

সবচেয়ে বহুল ও দূরারোগ্য ডিমেনসিয়ার হলো অ্যালঝাইমার্স। সারা বিশ্বেই ছড়িয়েছে এই রোগের প্রকোপ। ২০১৯ সালে বিশ্বে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৭০ লাখের কাছাকাছি। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০৫০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ১৫ কোটি। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এর প্রকোপ কিছু কম নয়। ‘অ্যালঝাইমার্স অ্যান্ড রিলেটেড ডিজঅর্ডারস সোসাইটি অব ইন্ডিয়া’র ২০২০ সালের একটি রিপোর্ট বলছে, ভারতে ষাটোর্ধ্ব প্রায় ৫৩ লাখ মানুষ ডিমেনসিয়ায় আক্রান্ত।

বর্তমানে ডিমনেসিয়া থেকে শতভাগ সেরে ওঠার তেমন কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি নেই। কিছু ওষুধ আছে, যা এই রোগের লক্ষণগুলোকে কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। সে ক্ষেত্রে ডিমনেসিয়া দ্রুত শনাক্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে ছোট থেকে মুটিয়ে যাওয়া রোধ করতে পারলে এ সমস্যা অনেকাংশেই সমাধান হয়ে যাবে। এ জন্য শিশুর খাদ্যাভ্যাস আর নিয়মিত শরীরচর্চার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

এসজেড/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply