সরকারি ১১ প্রতিষ্ঠানের লোকসান ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি!

|

অদক্ষতা ও গ্রাহক পর্যায়ে ভর্তুকি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ওপর। চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ১১ প্রতিষ্ঠানের লোকসান ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। লোকসানের বেশিরভাগই হয়েছে বিদ্যুৎ, সরকারি বিপণন, চিনি এবং সার খাতের প্রতিষ্ঠানের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার এখন ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে। এ সময়, এসব প্রতিষ্ঠানে ভতুর্কি অব্যাহত রাখা চ্যালেঞ্জিং হবে। পরিস্থিতি উত্তরণে করতে হবে কাঠামোগত সংস্কার।

সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দক্ষতা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। অনেক প্রতিষ্ঠানই লোকসান দিচ্ছে বছরের পর। চলতি অর্থবছরে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের লোকসান ৫ হাজার ৪ কোটি টাকা। ১ হাজার ৯শ’ কোটি টাকা লোকসান করে তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সবচেয়ে কম লোকসান করেছে বিইআরসি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব প্রতিষ্টানকে লাভজনক অবস্থায় আনতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ব্যক্তিখাতকে এখানে নিয়ে আসা যায় কিনা, কিংবা ব্যক্তিখাতের কর্মপরিকল্পনার সাথে সংশ্লিষ্ট করা যায় কিনা; এটি একটি বিষয়। তাছাড়া এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক করতে হবে বা, ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, লোকসানে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য অডিট প্রয়োজন। এতে সরকারের কর্ম পরিকল্পনা তৈরি সহজ হবে। কাঠামোগত পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। সংস্কারের জন্যে নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। সিপিডি’র সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই লোকসান হয়তো নীতিগত কারণেও হয়। যেমন, বিপিসি যদি লোকসান করে থাকে তার অর্থ হলো, সরকার যেহেতু দিন শেষে তেলের দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে, সে কারণেই লোকসান হচ্ছে। আবার তার অর্থ এই না যে, তাদের অদক্ষতা নেই। তাই সুশাসন, নীতিগত নাকি কৌশলগত কারণে লোকসান হচ্ছে; তা খুঁজে বের করা জরুরি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, একেবারেই যখন কোনো সুযোগ নেই, তখন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া বা বড় ধরনের কর্মসূচি গ্রহণের আগে সেখানে কাজ করতো এমন শ্রমিকদের অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: অর্থ পাচারকারীদের সুবিধা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্নবিদ্ধ হবে বাংলাদেশ?

/এম ই





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply