বন্যায় ব্যাপক দুর্ভোগে সুনামগঞ্জবাসী

|

দুর্যোগে দুর্বিসহ সুনামগঞ্জবাসীর জীবন।

চারিদিকে এখনও থৈ থৈ পানি। এরমধ্যেই কিছু বানভাসী মানুষ ঘরে ফিরেছেন। যদিও বাড়িতে ঢুকতে বা বের হতে এখনও তাদের একমাত্র ভরসা কলার ভেলা। এছাড়াও রয়েছে খাবারের তীব্র সঙ্কট, নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থাও। এমন অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে খেয়ে না খেয়ে বসত ভিটা আঁকড়ে বেঁচে আছেন সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যাদুর্গত কিছু মানুষ।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কদমতলা এলাকায় প্রায় ৩’শ মানুষের বাস। চারিদিকে বন্যার পানি, তাই এটি এখন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন এক দ্বীপ। বন্যার পানি বাড়তে থাকায় কিছু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাই ছেড়ে যাননি বসতবাড়ি। তাদের একজন সালেহা বেগম। ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘরে কোমর সমান পানিতে মাচা করে দিন রাত পার করেছেন। না খেয়েও ছিলেন দিনের পর দিন।

সালেহা বলেন, যতদিন পানি ছিল ততদিন সামান্য খেয়ে কোনোমতে জীবন রক্ষা করেছি। বাচ্চারা খাবারের জন্য কান্না করেছে অনেক। নিজে না খেয়ে বাচ্চাদেরকে খাওয়াতে হয়েছে।

পাশের বাড়ির আনোয়ারা বেগমের ঘরেও পানি উঠেছিলো কোমর পর্যন্ত। কিন্তু অসুস্থ স্বামী সন্তানদের রেখে যাননি কোথাও। খেয়ে না খেয়ে এখানেই দিন কাটিয়েছেন তিনি। আনোয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী চলাফেরায় অক্ষম, তাকে নিয়ে কোথাও যেতে পারিনি।

এখান থেকে কেউ বাজারে বা দোকানে যেতে চাইলে তাদের একমাত্র ভরসা নৌকা। তবে যাদের নৌকা নেই তাদের ভরসা কলাগাছের ভেলা। শুধু তাই নয় এক বাড়ি থেকে অন্যবাড়ি যেতেও লাগে নৌযান।

বানভাসি এই মানুষগুলোর অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহায়তা পাননি তারা; এমনকি তাদের খোঁজও নেয়নি কেউ। সহায়তা পেলে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এমনটাই প্রত্যাশা বানভাসি মানুষের।

/এসএইচ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply