ইউক্রেন থেকে খাদ্য সরবরাহ চালু করা না গেলে দরিদ্র দেশগুলো দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে: জাতিসংঘ

|

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন থেকে খাদ্য সরবরাহ দ্রুত চালু না করা গেলে দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে, দরিদ্র দেশগুলো। এমন শঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘ। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) জানায়, সংস্থাটির সহায়তা প্রকল্পের ৫০ শতাংশ খাদ্যই আসে ইউক্রেন থেকে। এদিকে, বন্দর বন্ধ থাকায় ইউক্রেনে মজুদ থাকা প্রায় ২৫ মিলিয়ন টন শস্য, মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে দেশটির কৃষকদের জন্য।

রুশ আগ্রাসনের কারণে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রয়েচে ইউক্রেন থেকে। দেশটির কৃষকরা বলছেন, ইউক্রেনে এখনও আটকা পড়ে আছে প্রায় ২৫ মিলিয়ন টন শস্য। যা গেল বছরের উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশ। সরবরাহ না হওয়ায়, আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি এই বিপুল পরিমাণ শস্য সংরক্ষণ করাও এখন দুশ্চিন্তার কারণ কৃষকদের কাছে।

ইউক্রেনীয় কৃষক কিস হেইজেংগিয়া বলেন, এই যে বিপুল পরিমাণ শস্য আটকা পড়ে আছে এটাই এখন আমাদের মাথা ব্যথা। আমাদের কারিগরী এবং কৌশলগত সঙ্কট রয়েছে। যুদ্ধের কারণে পন্য সরবরাহের আর কোনো পথ না থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি।

ইউক্রেনে কর্মরত ডব্লিডউএফপি কর্মকর্তা ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যা চলছে তাতে এটা স্পষ্ট যে খুব শিগগিরই বিশ্বের নতুন নতুন অঞ্চলে বড় ধরনের খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে।

প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয় ডব্লিডএফপি। এসব খাদ্যের প্রায় ৫০ শতাংশই আসে ইউক্রেন থেকে। আর এসব খাদ্য শস্য সরবরাহ করা হয় ওডেসা বন্দর থেকে। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বন্দরটি বন্ধ রয়েছে। ফলে নেই খাদ্য সরবরাহ।

জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের প্রধান ডেভিড বেজলি বলেন, আফগানিস্তান কিংবা ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলোর দিকে তাকান। জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভর করে আছে এসব দেশের লাখ লাখ মানুষ। যদি খাদ্য সরবরাহ এভাবে বন্ধ থাকলে এসব দেশগুলোর মানুষগুলো না খেয়ে মরবে।

এ অবস্থায় বিবাদমান পক্ষগুলোর প্রতি সংশ্লিষ্টদের আহ্বান, ওডেসা কিংবা মারিওপোলের মতো বন্দরগুলো পুনরায় চালু করে দ্রুত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।

/এসএইচ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply