তিন মাসে গড়ালো রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ, হামলায় কতটুকু সফল রাশিয়া?

|

ছবি: সংগৃহীত।

টানা তিন মাস ধরে চলছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধে পুতিন বাহিনীর সবশেষ বড় সাফল্য মারিওপোলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। দোনবাস অঞ্চলও প্রায় পুরোটাই রুশ বাহিনীর দখলে। এই মুহূর্তে প্রধান টার্গেট সেভেরো-দোনেৎস্ক। তবে এখনও নেই যুদ্ধে থামার লক্ষণ। কূটনৈতিক তৎপরতার ফলও শূন্য। বরং ন্যাটো সম্প্রসারণের উদ্যোগ ঘিরে জটিলতা আরও বেড়েছে। যুদ্ধকে ঘিরে টালমাটাল বিশ্ববাজারও। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিন ফ্রন্টে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন। ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর এক সপ্তাহের মাথায় কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মারিওপোলে যাত্রা শুরু করেছিল রুশ বহর। তীব্র হামলায় ছারখার হয় শহরটি। ইউক্রেনীয় বাহিনীর সবশেষ প্রতিরোধ ঘাঁটি ছিল কেন্দ্রের এক ইস্পাত কারখানা। গত সপ্তাহেই অ্যাজভস্তালে সেনারা আত্মসমর্পণ করায় পুরো বন্দরনগরীর নিয়ন্ত্রণ নেয় রাশিয়া। এর ফলে দক্ষিণে ক্রাইমিয়া থেকে উত্তরে খারকিভের একাংশ পর্যন্ত, ইউক্রেনের পূর্ব সীমার প্রায় পুরোটার নিয়ন্ত্রণ এখন মস্কোর হাতে।

মারিওপোল দখলের পরই পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাসে হামলা আরও জোরদার করে পুতিন বাহিনী। মূল টার্গেট এখন সেভেরো-দোনেৎস্ক। এই শহরের দখল মানেই পুরো লুহানস্কের নিয়ন্ত্রণ। তাই চারদিক থেকে চলছে গোলাবর্ষণ, ছোড়া হচ্ছে মিসাইল।

দোনবাসে প্রতিদিনই ৫০ থেকে ১০০ জন সেনার মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি। কূটনৈতিক পথে সমাধানের প্রত্যাশা জানালেও অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াতে মরিয়া তিনি। সামরিক সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে চলেছেন পশ্চিমাদের কাছে।

জেলেনস্কি বলেন, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, এই যুদ্ধ শুরুই হতো না যদি আন্তর্জাতিক মহল সক্রিয় হতো। আরও ভয়াবহ হামলার জন্য অপেক্ষা করবেন না। শক্ত ব্যবস্থা নিন। সর্বোচ্চ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হওয়া উচিত। যাতে রাশিয়া বা যে কেউ প্রতিবেশীদের ওপর আগ্রাসী হওয়ার আগে এর পরিণতি নিয়ে চিন্তা করে।

হামলার পর থেকে ইউক্রেনের অভাবনীয় প্রতিরোধের মুখে যুদ্ধের প্রথম মাসে বড় ধরনের সাফল্য পায়নি পুতিন বাহিনী। কৌশল পরিবর্তন করে দ্বিতীয় ধাপের অভিযানে টার্গেট করে দোনবাস ও দক্ষিণাঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। তিন মাসের মাথায় সে পরিকল্পনায় অনেকটাই সফল মস্কো। যদিও দু’পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে এই তিন মাসে।

তবে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা প্রায় নিস্ফল। বরং ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানের আবেদনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। পশ্চিমা অবরোধের জবাবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া।

যুদ্ধের তিন মাসে ইউক্রেন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোয় আশ্রয় নেয়া মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬০ লাখ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এতো বড় শরণার্থী সঙ্কট আর দেখেনি ইউরোপ।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এখন পর্যন্ত তারা ইউক্রেনের ১৭৪টি যুদ্ধবিমান, ১২৫টি হেলিকপ্টার, ৯৭৭টি আকাশযান, ৩১৭টি বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, ৩ হাজার ১৯৮টি ট্যাংক ও অন্যান্য যুদ্ধযান, ৪০৮টি রকেট লঞ্চার ধ্বংস করেছে।

এসজেড/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply