ঘুষ নিয়ে ঘাট ইজারা, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

|

ঘুষের বিনিময়ে ঘাট ইজারা দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে পটুয়াখালীর গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

স্টাফ রিপোর্টার, পটুয়াখালী:

বেআইনিভাবে একই স্থানে ভিন্ন খেয়াঘাট দেখিয়ে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে ঘুষের বিনিময়ে সেসব ঘাট ইজারা দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে পটুয়াখালীর গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন ও অবৈধভাবে ঘাট ইজারা নেয়া মো. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২১ মে) পটুয়াখালীর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রোখসানা পারভিন এ আদেশ দেন।

এর আগে গোলখালী ইউনিয়নের বড় গাবুয়া খেয়াঘাটের প্রকৃত ইজারাদারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং সাত লাখ টাকা ঘুষের বিনিময় অবৈধভাবে আরেকজন ইজারাদারকে খেয়াঘাট ইজারা দেয়ার
ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ও খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে একই আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন পটুয়াখালী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান
নাসির উদ্দিন ও খলিলুর রহমান এমনকি তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও ওইদিন থেকে বন্ধ রয়েছে।

দুদকের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পটুয়াখালীর গলাচিপা এবং বরগুনা জেলার আমতলীর মধ্যবর্তী গোলখালী নদীর বড়গাবুয়া খেয়াঘাটটি একটি আন্তঃজেলা খেয়াঘাট। ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে যথানিয়মে শিডিউল কিনে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে এই ঘাটটি ইজারা পান মো. রিয়াজ মিয়া। কিন্তু, দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ইজারাদারকে ইজারা প্রদানে বাধা দেন। এক পর্যায়ে সম্পূর্ণ বে আইনীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান নাসির মাত্র সাত লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আগেরই স্থানেই বড়গাবুয়া টু বড়গাবুয়া লিখে জনৈক খলিলুর রহমানকে ইজারা দেয়। যেটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, সরকারি ইজারা প্রদানকৃত খেয়াঘাটের দুই মাইলের মধ্যে নতুন কোনো খেয়াঘাট সৃষ্টি বা নতুন নামে কোনো খেয়াঘাটের ইজারা দেয়ার কোনো বিধান স্থানীয় সরকার আইনের কোথাও নাই। তা সত্বেও চেয়ারম্যান নাসির ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষমতার প্রভাবে ঘুষের বিনিময়ে একই স্থানে নতুন নাম দিয়ে ঘাটের ইজারা প্রদান করেছে।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ঘটনার পর প্রকৃত ইজারাদার রিয়াজ উদ্দিন ২০২০ সালের ১৩ মার্চ পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দুর্নীতি দমন আইনে চেয়ারম্যান নাসির ও ইজারাদার খলিলুরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তখন বিজ্ঞ আদালত মামলটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য
দুদক পটুয়াখালী অফিসকে আদেশ দেন।

এরপর দীর্ঘ দুই বছর তদন্ত শেষে গত ৮ই মার্চ পটুয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন আসামি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ও খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। এরপর, আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বাদী মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, চেয়ারম্যান নাসিরের কারণে আমি আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। নানাভাবে হয়রানিরও শিকার হয়েছি। আমাকে বার বার প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। আমি এর বিচারের জন্যই মামলা করেছি। আশা করি বিজ্ঞ আদালত সঠিক বিচার করবেন।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরপরই চেয়ারম্যান নাসির গা ঢাকা দিয়েছে।

গলাচিপা থানার ওসি শওকত আনোয়ার হোসেন জানান, এখনও আদালতের কপি হাতে পাইনি। ওয়ারেন্টের কপি পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/এসএইচ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply