ফরিদপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে ঢুকে শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী গুরুতর আহত

|

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজান বয়াতীর বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রী সন্তানকে কুপিয়ে আহত করেছে এরশাদ নামের স্থানীয় এক সন্ত্রাসী। হাসপাতালে নেয়ার পথেই চেয়ারম্যানের শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে স্ত্রী।

বুধবার (১৮ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান মিজান বয়াতী ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে ১০ বছরের শিশু সন্তান রাফসানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন স্ত্রী দিলজাহান রত্না(৩৫)। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একই গ্রামের সানু মোল্যার ছেলে এরশাদ ঘরে প্রবেশ করে চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও ছেলেকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় চেয়ারম্যানের স্ত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারী এরশাদ পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা দু’জনকে উদ্ধার করে সদরপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাফসানকে মৃত ঘোষণা করে। এদিকে আহত রত্নার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, এরশাদ তার বউকে নির্যাতন করতো। এ বিষয়ে ঈদের পর একাধিকবার শালিস হয়। শালিস করেছিলেন চেয়ারম্যান। গত কয়েকদিন আগে বউয়ের সাথে এরশাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। শালিসের সিদ্ধান্ত নিজের পক্ষে না যাওয়াতে চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল এরশাদ। এ কারণেই হামলা হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল পাশা জানান, মিজান বয়াতীর স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এদিকে চেয়ারম্যানের সন্তানের মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা হামলাকারী এরশাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে।

এটিএম/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply