সাভারে বিরিয়ানিতে কুকুরের মাংস দেয়ার অভিযোগ

|

অভিযুক্ত বিরিয়ানির দোকান থেকে জব্দ করা হয়েছে মাংস।

সাভার প্রতিনিধি:

সাভারের আশুলিয়ায় বিরিয়ানিতে কুকুরের মাংস দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দোকানীর বিরুদ্ধে। তবে দোকানীর দাবি, তার ব্যবসার সুনাম নষ্ট করতেই পরিকল্পিতভাবে এমন দুর্নাম রটারো হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে আটক করেছে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সায়েদ হোসেন বিল্লাল এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি রাজীবকে। জব্দকৃত মাংস পাঠানো হয়েছে ল্যাবে।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার (১৫ মে) দুপুরে। ছেলের বায়না মেটাতে মা রুপালি বেগম অভিযুক্ত আল্লারদান বিরিয়ানি হাউজ থেকে এক প্যাকেট বিরিয়ানি নিয়ে যান বাসায়। বাসায় গিয়ে বিরিয়ানিতে দেখতে পান মাংসের হাড় খুব চিকন ও কালো। স্বাধও নেই। তার সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি জানান স্থানীয় শরীফ নামের এক ওষুধের দোকাদারের কাছে। এরপর শুরু হয় হুলুস্থূল। একে একে দোকানে আসে কয়েকজন ব্যক্তি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুপালি বেগম বলেন, আমি কোথাও কোনো অভিযোগ করিনি। এমনকি এটাও বলেনি এটি কুকুর মাংস। শুধু জানতে চেয়েছি এটি গরু না খাসির মাংস। পুলিশ আমার সাথে কোনো কথা বলেননি।

তবে আল্লারদান বিরিয়ানি হাউজের ব্যবসায়ী সায়েদ হোসেন বিল্লাল বলেন, এটি ষড়যন্ত্র। আমাদের ব্যবসার সুনাম নষ্ট করতে কেউ পরিকল্পিতভাবে এমন করেছে। দোকানটি দিয়েছি এক বছর হলো। এখানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। এ দেখেই অনেকে এমন ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগ তার। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর কয়েকজন টাকা দিয়ে মিটমাট করে ফেলারও প্রস্তাব দেন। যখনই রাজি হয়নি তখন ঝামেলা পাকিয়ে বসেন।

গরুর মাংস কেনার বিষয়টি সত্য জানিয়ে স্থানীয় আলিম কসাই বলেন, মাংস আমি দিয়েছি। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ কেজি গরু মাংস নেন তারা। একদিন মিস হলে দুই দিনের মাংস একদিনে নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখে। গরু জবাইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের বাজার কমিটি প্রতিদিন যাছাই-বাছাই করে এখানে। অন্য কিছু করার কোনো সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত রায় বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। আমালত হিসেবে মাংস জব্দ করে পরীক্ষা করার জন্য উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। কোনো অভিযোগকারী না থাকায় আমি বাদী হয়ে মামলা দিয়ে আটক রাজীবকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছি।

এসজেড/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply