অনুসন্ধান চলে বছরের পর বছর, মুদ্রাপাচার মামলার অপর নাম দীর্ঘসূত্রতা

|

মুদ্রাপাচার মামলার অপর নাম দীর্ঘসূত্রতা। অনুসন্ধান, তদন্ত, নিম্ন আদালতে বিচার চলে বছরের পর বছর। বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রাপাচার ঠেকাতে আইন আন্তর্জাতিক মানের হলেও বিচারে লেগে যায় দীর্ঘ সময়। তাই অর্থপাচার রোধে রাজনৈতিক অঙ্গীকার জরুরি বলেও মত তাদের।

গত দুই দশকে দেশের অর্থনৈতিক খাত যত বড় হয়েছে ততই বেড়েছে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক লেনদেন। দেশের ভেতরে অনেকে রোজগার করলেও সেই অর্থের নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য বিশ্বের নানা দেশে নিচ্ছে বিত্তশালীরা। সেই সকল অর্থ লেনদেনের পেছনে মুদ্রাপাচারের মত অপরাধ ধরাও পড়ছে সংস্থাগুলোর হাতে।

গত কয়েক বছরে দায়েরকৃত মামলার তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, ক্ষমতাসীন রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও সরকারি চাকুরিজীবীরাই মুদ্রা পাচারের মামলায় বিচারের মুখোমুখি। তবে সাবেক ক্ষমতাসীন ও তাদের সুবিধাভোগীরাও মামলা লড়ছেন। বিচারিক আদালতে ৯৫ ভাগ মামলা নিষ্পত্তিই হয়নি। অথচ পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ সময়। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলছেন, মোর অর লেস এটাই বাস্তবতা। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ীই বিচার করতে হবে। রাতারাতি কাউকে ধরেই শাস্তির আওতায় আনার কোনো সুযোগ নেই।

ঢাকাসহ সারাদেশে ৫ শতাধিক মুদ্রাপাচার মামলার বিচার চলছে বিচারিক আদালতগুলোতে। ঢাকার নিম্ন আদালতে আছে ১৯৫টি মামলা। উচ্চ আদালতে আপিল চলছে ২১টিরও বেশি মামলার। মুদ্রাপাচার মামলায় সর্বোচ্চ সাজার বিধান ১২ বছর। এই সাজা বাড়ানোর দাবিও করা হচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন জানালেন, প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াত সন্তান আরাফাত রহমান কোকোকে মুদ্রা পাচার মামলায় দণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, সিঙ্গাপুর থেকে ৮ কোটি টাকা ফেরত আনা হয়েছে, যা পাচার করেছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। যদিও তার আইনজীবীর দাবি এটি কোকোর অর্থই নয়। এটি ছাড়া পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার আর কোনো নজির নেই।

দেশের শীর্ষ মুদ্রাপাচারকারী হিসেবে পিকে হালদারের নাম উঠে এসেছে। ভারতের কারাগারে রয়েছেন বন্দি রয়েছেন তিনি। যদি তাকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করা যায় এটাও হবে দেশের প্রথম নজির। তার ৩৬টি মুদ্রাপাচার মামলা কতদিনে শেষ হবে তা অবশ্য বলা মুশকিল।

/এডব্লিউ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply