যমুনায় খবর প্রচারের পর সরানো হলো সেতুর ওপরের ঘর

|

স্টাফ রির্পোটার, নেত্রকোণা:

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী হাওরাঞ্চলের চাকুয়া ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে সেতুর ওপর তৈরি ঘর অপসারণ করা হয়েছে। ছয় বছর আগে নির্মাণ করা সেতুতে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় নির্মাণের পর থেকে সেতু দিয়ে কোনো যানবহন চলাচল করেনি, এমনকি হেঁটে পার হতে পারেনি কেউ। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার (৩ মে) ‘কোনোদিন কাজে লাগেনি সেতুটি, তাই ঘর বানিয়ে থাকছেন জলমহালের লোকজন’ শিরোনামে যমুনা টেলিভিশনে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এরপর বিষয়টির দিকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকৃষ্ট হলে জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমানের নির্দেশে সোমবার (৯ মে) বিকেলে ঘরটি সরিয়ে নেয় ফিসারির লোকজন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া বাজার থেকে ফরিদপুর হয়ে জগন্নাথপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার মাটির ডুবো সড়ক রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক দিয়ে শুকনো মৌসুমে প্রতিদিন লেপসিয়া, ফতুয়া, ফরিদপুর, রাশিদপুর, চাকুয়া, জগন্নাথপুরসহ আশপাশের অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষ চলাচল করে। গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে সড়কের ফরিদপুর এলাকায় জলমহালসংলগ্ন খালের ওপর একটি উঁচু পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। হাবিব এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে। কিন্তু সেতুর দুপাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় নির্মাণের পর থেকে সেতুটির ওপর দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচলে কাজে আসেনি। গত চার বছর ধরে সেতুর ওপর দুই তৃতীয়াংশ জুড়ে একটি টিনের ঘর তৈরি করে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। ফরিদপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা নেয়া জলমহালের লোকজন ওই ঘরটি তৈরি করে ব্যবহার করছে।

ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা আক্কাস মিয়া ও রইস উদ্দিন বলেন, সেতুটি নির্মাণের পর থেকে মানুষ চলাচলের কাজে না আসলেও ঘর বানিয়ে জলমহালের লোকজন বসবাস করে পাহারার কাজে ব্যবহার করতো। সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ করে সেতুটি কোনো কাজে আসছিল না। ঘরটি অপসারণ করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংযোগ সড়কসহ মাটির সড়কটি উঁচুসহ পাকা করার দাবি জানান তারা।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওই সেতুটির ওপর প্রায় চার বছর ধরে জলমহালের লোকজন ঘর বানিয়ে মাছ পাহারা দিচ্ছিল। সংযোগ সড়কের জন্য বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। তিনি আরও জানান, সেতুর দুপাশে সংযোগ সড়ক হলে ওই রাস্তা দিয়ে ইজিবাইক, সিএনজি ছোট যানবাহন সহজেই চলাচল করতে পারবে। মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আবু সিদ্দিক ও সদস্য মাঈন উদ্দিন বলেন, সেতুটি বানানোর পর থেকে অকেজো হিসেবে পড়ে থাকায় আমরা কয়েক বছর আগে ঘর বানিয়ে পাহারার কাজে ব্যবহার করছিলাম। এখন প্রশাসনের নির্দেশে আমরা ঘর সরিয়ে নিয়েছি।

এ নির্দেশের প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে খালিয়াজুরীর (ভারপ্রাপ্ত) উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াসিন খন্দকার নিজের নেতৃত্বে কালভার্টটিতে অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, দখলদাররা ঘরটি ভেঙে নিয়ে পালিয়েছে। তাই অভিযুক্তদের ধরা সম্ভব হয়নি। ওই দখল দ্রুত উচ্ছেদ করে দখলদারদের আইনের আওতায় আনতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে যমুনা টেলিভিশনসহ কয়েকটি মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর তা নজরে এসেছে। ঘরটি সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া সেতুটিতে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে এলাকাবাসীর সমস্যা সমাধান করা হবে বলেও জানান তিনি।

এটিএম/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply