মালয়েশিয়ায় নির্বাচন কাল, কে জিতবেন মাহাথির নাকি নাজিব

|

মালয়েশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন আগামীকাল। ধারণা করা হচ্ছে, একসময়কার গুরু-শিষ্যের লড়াইটা হবে হাড্ডাহাড্ডি। অনেকেই ভাবছেন, এবার যদি মাহাথির মোহাম্মদ ভোটের মারপ্যাচে নাজিব রাজাককে হারাতে ব্যর্থ হন; তাহলে আগামীতে তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কেউ থাকবে না।

মালয়েশিয়ার ছয় দশকের নির্বাচনী ইতিহাসে ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন- ইউএমএনও নেতৃত্বাধীন জোট কখনোই হারেনি। এই প্রথমবার দেশটিতে হতে যাচ্ছে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন।

কেননা, এবারের লড়াইটা গুরু-শিষ্যের। রাজনৈতিক পরিবারের হলেও আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের। একসময় দু’জনে ছিলেন একই জোটে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দু’জনের জোট বারিসন ন্যাশনাল ও পাকাতান হারাপানের অবস্থান মুখোমুখি। ভোটারদের অনেকে এ নির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাতের গণভোট হিসেবে দেখছেন।

একজন ভোটার বলেন, প্রধানমন্ত্রী নাজিবের তুলনায় শতগুণ ভালো মাহাথির। চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি- কিভাবে সরকার পরিচালনা করছেন তিনি। তার মন্ত্রীসভার প্রত্যেক মন্ত্রী দুর্নীতিগ্রস্ত। নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্যেই মাহাথিরকে ভোট দেবো।

আরেকজন ভোটার বলেন, এই নির্বাচনে যদি বিরোধীরা হেরে যায়; তাহলে নাজিব রাজাক’কে চ্যালেঞ্জ করার মতো আর কেউ থাকবে না। কারণ সবাই মাহাথিরের মতো ক্যারিশমাটিক নেতা নন।

ছোট্ট দেশটির নির্বাচনে দেড় কোটি ভোটার। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয় মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর ভোট গড়ে দেবে ব্যবধান। যাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহিম জুটি। মাঠের লড়াইয়ে না থাকলেও কারাগার থেকে বিরোধী এই নেতা দিচ্ছেন পাশার দান। বিশ্লেষকদের অভিমত, নাজিবকে পরাজিত করার জন্য দুই ক্যারিশমাটিক নেতাই যথেষ্ট।

মারদেকা সেন্টারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইব্রাহিম সুফিয়ান বলেন, নাজিবের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য এ নির্বাচন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, তিনি আর্থিক কেলেঙ্কারির জন্য বেশ সমালোচিত। তার ওপর মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক এলিটদের সাথে লড়াই। নির্বাচনে কোন হেরফের হলে, নিজের দল ইউএমএনও’র মধ্যেই তার অবস্থান হুমকিতে পড়বে। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও; দিনশেষে মালয়’রাই মূল বিষয়।

বিরোধীদের ঠেকাতে নির্বাচনে মাহাথিরের রাজনৈতিক দলকে অযোগ্য ঘোষণা, তার ছবি পোস্টার-ব্যানারে ব্যবহার নিষিদ্ধ, নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাসসহ ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে উঠেছে বিভিন্ন নোংড়া রাজনীতির অভিযোগ। পাশাপাশি, বাস্তবতা হলো- নির্বাচনে বেশিরভাগ ভোটারই অনেকটা চোখ বুজে সিল দেবেন ইউএমএনও’র ব্যালটে।









Leave a reply