সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সন্তানকে হারিয়ে নিঃস্ব নাটোরের শাজাহান-হেলেনা দম্পতি

|

ফাইল ছবি

সিনিয়র করেসপনডেন্ট, নাটোর:

নাটোরের বড়াইগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মেয়ে সাদিয়া খাতুন (১৪) ও ছেলে কাওছার হোসেন (১৮) কে হারিয়ে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছেন শাজাহান-হেলেনা দম্পতি। এ দর্ঘটনায় দুই ভাই-বোনসহ নিহত হয়েছেন আরও ৭ জন। এ সময় আরও অন্তত ২০ জন আহত হন।

শনিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলায় বনপাড়া- হাটিকুমরুল মহাসড়কের গাজী অটো রাইসমিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে ।

বড় হরিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান গণি ভূ্ঁইয়া জানান, শনিবার সকাল দশটার দিকে স্থানীয় বাস টার্মিনাল থেকে সিয়াম পরিবহনের একটি বাসে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে পাইকোড়দৌল গ্রামের শাজাহান হোসেনের স্ত্রী টাঙ্গাইলে তার মামার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গাজী অটো রাইসমিলের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা ন্যাশনাল পরিবহনের একটি বাসের সাথে তাদের বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই সাদিয়া খাতুন ও কাওছার হোসেন মারা যায়। কিন্তু এ ঘটনার তাদের মা অক্ষত থাকেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলে-মেয়েকে হারিয়ে তাদের বাবা মা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। এ ঘটনায় এলাকার মাঝে শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুই সন্তান নিয়ে কৃষক দম্পতির বেশ প্রাণবন্ত সংসার ছিল। আকস্মিক দুর্ঘটনায় ছেলে-মেয়েকে হারিয়ে পরিবারটা একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেলো। এ শোকের স্বান্তনা দেবার ভাষা আমাদের জানা নেই। দুজনই শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন।

জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, দুই সন্তান নিহতের ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। জেলা প্রশাসন থেকে সাধ্যমতো পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে। নিহতদের প্রত্যেকের জন্য পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা খাতুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী রেঞ্জের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ন্যাশনাল ট্র্যাভেলসের বাসের সঙ্গে নাটোর থেকে সিরাজগঞ্জগামী সিয়াম পরিবহনের বাসের সংঘর্ষ হয়। এরপর সিয়াম পরিবহনের বাসটি গাজী অটো রাইসমিলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন, নাটোরের লালপুরের মোহনা আক্তার মিলি, সদরের পাইকারদৌল গ্রামের সাদিয়া পারভিন, কাওছার আলী ও আলমগীর হোসেন, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার গ্রামের জলিল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মশিউর রহমান ও মাগুরার মিজানুর রহমান। নিহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী সাদিয়া ও ১৮ বছর বয়সী কাওছার দুই ভাই-বোন। সিয়াম পরিবহন বাসটি থেকে পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মা ওই বাসেই ছিলেন তবে তিনি অক্ষত আছেন। বাকি চারজনের মরদেহ ন্যাশনাল ট্র্যাভেলসের বাস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

/এসএইচ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply