ঈদযাত্রার কাফেলার সাথে চিরতরে ঢাকা ছাড়ছেন যারা

|

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কুলিয়ে উঠতে না পারা নিম্ন আয়ের একদল মানুষ, যারা স্বপ্ন নিয়ে একদিন পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজধানীতে, ঈদ যাত্রীর বহরে তারাও ছুটছেন গ্রামের পথে। তবে পরিবারের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নয়, একেবারে শহর ছাড়ছেন তারা। রণেভঙ্গ দেয়া এমন শত শত বিষন্ন মুখের দেখা মিলছে ফেরিঘাটে।

স্বামী ওমর ফারুকের সাথে ১৯ বছর আগে এসেছিলেন যাদুর শহরে। ইট পাথরের বোবা নগরীকে বারবার চেয়েছেন আপন করতে। শেষ পর্যন্ত তা না হওয়ায় সর্বস্ব গুছিয়ে বরগুনার পথে নার্গিস বেগম। জানালেন, ছেলেমেয়ের ভালো পড়াশোনা নিশ্চিত করতে আর একটু উন্নত জীবনের আশায় এসেছিলেন রাজধানীতে। তবে আয়ের থেকে ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকায় থাকা অসম্ভব হয়ে উঠছে তাদের জন্য।

শিমুলিয়া ফেরিঘাটে তার মতই আরেক মুখ ফেরদৌসী-গনি দম্পতি। রিকশা চালকের পরিবারটিও পদ্মা পাড়ির অপেক্ষায়। দ্রব্যমূল্যের গতির সাথে পাল্লা দিয়ে হেরে যাওয়া সৈনিক তারা।

এমন গল্পেরই আরও চরিত্র দম্পতি সোহেল-লিমা, গাড়ি চালক সুজনসহ শতশত মানুষ। ঈদযাত্রায় সবার সাথে থাকলেও আসলে চিরদিনের মত শহর ছাড়ছেন তারা। করোনা পরবর্তী ঈদে তাদের দীর্ঘশ্বাসের সাক্ষী ফেরিঘাটগুলো।

ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন আবারও কখনো পূরণ হবে কিনা তা জানেন না মেগাসিটির মায়া কাটানো এই মানুষগুলো। লাল-নীল বাতি দেখে আশা ফুরানোদের কাছে দিনশেষে এখন কৃষিকাজই ভরসা।

/এডব্লিউ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply