ফরিদপুরে একই ফ্ল্যাটে কলেজ শিক্ষিকা ও ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ

|

ফরিদপুর শহরের দক্ষিন ঝিলটুলি এলাকার একটি বাসা থেকে সরকারী সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের এক শিক্ষিকা ও সোনালি ব্যাংক প্রিন্সিপাল শাখার অডিট কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।

কলেজ শিক্ষিকার নাম সাজিয়া বেগম। তিনি সরকারী সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য  অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। দুই ছেলে নিয়ে এই ফ্লাটের পাশের ফ্লাটে থাকতেন। তার স্বামী ঢাকায় ব্যবসা করেন। তাদের বাড়ি রাজধানীর সুত্রাপুর থানার বানিয়া নগর। ব্যাংক কর্মকর্তার নাম ফারুক হাসান। তার বাড়ি রাজধানীর আগারগাও এলাকায়।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইন চার্জ এফএম নাসিম বলেন, বাড়ির মালিক খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। দক্ষিন ঝিলটুলির নুর ইসলাম এর দ্বিতল বাড়ির নিচ তলার একটি ফ্লাট থেকে লাশ দুইটি উদ্ধার করা হয়। শিক্ষিকার লাশ দরজার পাশে রক্তাত্ত অবস্থায় এবং ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ ফ্যানের হুকের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

বাড়ির মালিকের ছেলে ডেভিড বলেন, ‘রাজেন্দ্র কলেজে কনসার্ট ছিল। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে কনসার্ট শেষে বাড়ি ফিরে নিচ তলার ওই ফ্লাটের দরজা খোলা দেখতে পাই। দরজার ফাঁকা দিয়ে দেখতে পাই ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ ঝুলছে। সাথে সাথেই পুলিশকে জানাই।’

ডেভিড আরো জানান, ওই কলেজ শিক্ষিকা এক বছর আগে এই বাসা ভাড়া নেন। আর ব্যাংক কর্মকর্তা ভাড়া নেন এক মাস আগে। তবে মাত্র দুই দিন আগে তিনি বাসায় এসে ওঠেন।

সরকারী সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুলতান মাহামুদ বলেন, ঘটনার দিন ম্যাডাম কলেজে যান, পরীক্ষার দায়িত্বও পালন করেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি কলেজ থেকে বাড়ির জন্য বের হয়ে যান। রাতে জানতে পারলাম ম্যাডামকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খুজাখুজির পরে না পেয়ে থানায় যাই। ঠিক তখনই বাড়ির মালিকের ছেলে থানায় গিয়ে পাশের ফ্লাটে লাশ ঝুলে থাকার খবর দেয়। সেই লাশ উদ্ধার করতে এসে পুলিশ ম্যাডামের লাশও উদ্ধার করে।

নিহত কলেজ শিক্ষিকার স্বামী শেখ শহিদুল ইসলাম জানান, ৪টার দিকে স্ত্রীর সাথে শেষ কথা হয়। তখন সে জানায় বাসায় আসছে । এরপর রাত হয়ে গেলেও বাসায় না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করি, তার কলিগদের জানাই।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply