আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম, ৮৮ ঘরের নির্মাণকাজ বন্ধ করলেন জেলা প্রশাসক

|

স্টাফ করেসপনডেন্ট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় গৃহহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক।

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম পাওয়ায় ৮৮টি ঘরের নির্মাণকাজ বন্ধ করছেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাজের তদারকিতে ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুমানা আক্তার। তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ঠিকাদার নুরুজ্জামান ভূইয়াকে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ১৬৯টি ঘরের কাজ দেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম। এ সময় তিনি রাজমিস্ত্রী ও সহকারীদের সাথে নিয়ে যান। তিনি কাজের সঠিকতা যাচাই করতে গ্রেড বিম, পিলার, লিন্টারের কিছু অংশ ভেঙে ভেঙে দেখেন। এ সময় তিনি দেখতে পান যে সঠিক মাপের রড দেয়া হয়নি, রড কম দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্বে রডের রিং না দিয়ে অতিরিক্ত দূরে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ইট, বালি, সিমেন্টেও কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে।

এসব কারণে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭টি স্থানের ১৪২টি নির্মাণাধীন ঘরের মধ্যে ৮৮টি ঘরের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। ক্ষুব্ধ জেলা প্রশাসক স্থানীয় ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পিআইওকে ভৎর্সনা করেন। উপজেলার খলাপাড়া, ঘাগুটিয়াসহ ৮৮টি ঘর নির্মাণে অনিয়ম পেয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন ডিসি।

একজন ঠিকাদারকে দিয়ে ১৬৯টি ঘরের কাজ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আখাউড়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার বলেন, কিছু কাজে অনিয়ম হওয়ায় জেলা প্রশাসক কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আমি, সদস্য সচিব প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী। তিনিই কাজের মনিটরিং করছেন। অনিয়মের বিষয়ে আমাকে কখনও কোনো তথ্য জানাননি। ঠিকাদার নুরুজ্জামান ভূইয়া এবং আক্তার মাস্টার কাজ করেছে। তারাও যে কাজ খারাপ করবে তা ভাবতে পারিনি।

স্থানীয় মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল আলম চৌধুরী দীপক জানান, জেলা প্রশাসক তার এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় ঘর নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও রডের বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ঠিকাদার নুরুজ্জামান ভূইয়া জানান, আমি শুধু মালামাল সরবরাহ করেছি। চাহিদা অনুযায়ী ইট, বালু ও সিমেন্ট দেয়ার পর আমাদের টাকা সাথে সাথে পরিশোধ করে দিয়েছে। কাজ করেছে ইউএনও ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। আমার কাজ করার সুযোগ নেই।তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী’র মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম সাংবাদিকদেরকে জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। এ বিষয়ে কোনো কর্মকর্তার অনিয়ম গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

/এসএইচ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply