অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই দণ্ড, বাস-লঞ্চকে জরিমানা

|

ভোক্তা অধিকার অধিদফতর জরিমানা করেছে বাস ও লঞ্চকে।

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। সাভারে তিনগুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করায় শেরপুর ট্রাভেলসকে জরিমানা করা হয়। সদরঘাটেও লঞ্চে বেশি ভাড়া নেয়ায় জরিমানা করা হয় কয়েকটি লঞ্চ মালিককে। কেউ ভাড়া বেশি নিলেই ভোক্তা অধিদফতরে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঈদ এলেই যে চিত্রটি দেখা যায় সর্বত্র, তা হলো যাত্রীদের ঘরে ফেরার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাস ও লঞ্চে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করা। এবারও যে তা ঘটছে, তার প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। শেরপুর ট্রাভেলসে ৪৫০ টাকার ভাড়া এক হাজার থেকে ১২ শ’ টাকা নেয়া হচ্ছিল এক কাউন্টার থেকে। ঈদের ফিরতেই হবে বাড়ি, আর যাত্রীরাও নিরুপায় হয়ে রয়ে যায় প্রতিবাদহীন। বুধবার (২৭ এপ্রিল) অভিযান চালিয়ে এই বাস কোম্পানিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার অধিদফতর। পরে অন্য কাউন্টারেও খোঁজখবর নেয় তারা। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় বন্ধে সতর্ক করে দেয়া হয়। বিআরটিএ’র নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি ভাড়ায় টিকিট বিক্রি না করার ব্যাপারে সতর্ক করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ফাহমিনা আক্তার।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং দৃশ্যমান জায়গায় ভাড়ার চার্ট না রাখার দায়ে ৩ লঞ্চকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকারের ভ্রাম্যমান আদালত।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে সদরঘাট লঞ্চ টারমিনালে অভিযান চালায় সহকারি পরিচালক আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বাধীন একটি দল। চাঁদপুরগামী ঈগল-৭ লঞ্চে দেখা যায় নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা হচ্ছে। মূল্যতালিকা দেখতে চায় আদালত, যা দেখাতে পারেনি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এ কারণে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এমভি ঈগল-৭ কে।

এরপর একই অনিয়ম পাওয়া যায় ঢাকা টু বরগুনাগামী এমভি পূবালী-১ লঞ্চেও। সেটিকেও গুনতে হয় ১০ হাজার টাকা জরিমানা। মাঝে আরেকটি লঞ্চকে বেশি ভাড়া আদায়ের দায়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভোক্তা অধিকারের ভ্রাম্যমান আদালত।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক জব্বার মন্ডল বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিদফতরের একটি হটলাইন নাম্বার আছে, ১৬১২১। এই নাম্বার ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। যেকোনো সময় এখানে অভিযোগ দায়েরের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রতারিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে অবশ্যই প্রতিকার দেয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টের রায় চেম্বার আদালতে বহাল

/এম ই





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply