ফি নিয়ে করেনি রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার হলে গিয়ে বিপাকে চার এইচএসসি পরীক্ষার্থী

|

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জে পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন না করেই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রামের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৪ পরীক্ষার্থী।  শুক্রবার এইচএসসি প্রোগ্রামের লিখিত পরীক্ষা শেষ হলেও এসব শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত তাদের পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। কেন্দ্র সমন্বয়কারীর বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তিনি টাকা নিয়েও এসব শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করে দেননি।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ কেন্দ্রে চার শিক্ষার্থীকে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন ওই কেন্দ্রের সমন্বয়কারী প্রফেসর মোঃ শওকত আলী দাঁড়িয়া। তিনি সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরতঃ ছিলেন। গত ২০১৭ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করলেও এখনও তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রামের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীরা হলেন বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের মোঃ রেজাউল হকের মেয়ে শারমিন আক্তার ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাশুড়িয়া গ্রামের লুৎফর রহমান খানের ছেলে আবুল কাশেম জানান, তারা প্রোগ্রামের সমন্বয়ক প্রফেসর মোঃ শওকত আলী দাঁড়িয়াকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য টাকা দিয়েছেন। তিনি তাদের রেজিস্ট্রেশন না করে আবার তাদেরকে পরীক্ষা দেবার সুযোগ করে দিয়েছেন।

মোঃ শওকত আলী দাঁড়িয়া

এদিকে পরীক্ষা দেবার সুযোগ করে দিলেও হলে হাজিরা খাতায় তাদের স্বাক্ষর না নেয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। তারা প্রতারণাকারী ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। একই অবস্থা অন্য দুই শিক্ষার্থী শামচুল আরেফিন ও আল-মামুনেরও। দ্বিতীয় সেমিস্ট্রারের রেজিস্ট্রেশন না করেই পরীক্ষা অংশ নিয়েছেন তারা।

অভিযুক্ত সমন্বয়ক প্রফেসর মোঃ শওকত আলী দাঁড়িয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি ভেবেছিলাম রেজিস্ট্রেশনের সময় বর্ধিত করা হবে। তখন ওই ৪ ছাত্রের রেজিস্ট্রেশন করা হবে। কিন্তু সময় বর্ধিত না করায় এটা সম্ভব হয়নি। তাদেরকে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম রেজিস্ট্রেশন করার জন্য কিন্তু করতে পারিনি। তাদেরকে বলেছি, আগামী বছর রেজিস্ট্রেশন করে দিবো, তখন পরীক্ষা দিতে পারবে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাকিব হাসান তরফদার জানান, তিনি অভিযোগটি শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গোপালগঞ্জ কেন্দ্রের সহকারি আঞ্চলিক পরিচালক আলমগীর হোসেন খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি আজই শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।









Leave a reply