সন্তানের নাম ‘জিহাদ’ রাখা যাবে না!

|

সন্তানের নাম ‘জিহাদ’ রাখা যাবে না বলে আদেশ দিয়েছে ফ্রান্সের এক আদালত। আদেশে বলা হয়েছে, এতে সন্তানের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ফ্রান্সের দক্ষিনের শহর তুঁলোতে গত বছর এক দম্পতি তাদের নবজাতক সন্তানের নাম জিহাদ রাখেন। প্রতিবেশিরা এই নামে আপত্তি জানালে নড়েচড়ে বসে শহর কর্তৃপক্ষ। তারই জেরে একপর্যায়ে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

অবশেষে আদালত নিদেশ দিয়েছে, শিশুটির জন্মসনদ থেকে জিহাদ নামটি কেটে ফেলতে হবে। নতুন একটি জন্ম সনদ তৈরির নিদেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে সন্তানটির নাম বদলে লেখা হবে ‘জাহিদ’।

ফ্রান্সে বাবা-মা তাদের ইচ্ছামতোই সন্তানের নাম রাখতে পারেন, যদি না সেই নাম সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য কিংবা ৩য় কোন পক্ষের জন্য ক্ষতিকর না হয়।

আরবী শব্দ জিহাদের অর্থ সংগ্রাম। এই সংগ্রাম অনেক অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। এর মানে আত্মোন্নয়নের জন্য নিজের সাথে সংগ্রাম করা। সমাজের সার্বিক উন্নয়নে শান্তিপূর্ণ প্রয়াস কিংবা সামরিক অর্থে সংগ্রাম।

ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমাদের কাছে জিহাদের অর্থ অমুসলিমদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম। যদি আধুনিক যুগের পণ্ডিতদের মতে জিহাদ অনেকটা প্রতিরোধমূলক ধারণা।

বিগত কয়েক বছরে বেশ ক’টি জঙ্গি হামলার পর ফ্রান্সে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ে বাড়তি ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে ফরাসী সমাজে বেড়েছে ইসলামফোবিয়া। জিহাদ নামে নিষেধাজ্ঞা তারই অন্যতম দৃষ্টান্ত।

এর আগে ২০১৩ সালে বুশরা নামে এক ফরাসী মহিলা তার সন্তানকে জিহাদকে স্কুলে পাঠায় বিশেষ এক সোয়েটার পরিয়ে। যার সামনে লেখা ছিলো ‘I am a bomb’ আর পেছনে লেখা ‘Born on September 11’. এই অপরাধে বুশরাকে কারাদাণ্ড দেন আদালত।

যমুনা অনলাইন : আরএম





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply