রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র: যুদ্ধ নাকি নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূত্রপাত?

|

অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান:

কিছুদিন যাবৎ সংবাদপত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মনোযোগ তিন খানের ওপর। জায়েদ খান, শাহরুখ খান এবং মুসকান খান। শেষ দুজনের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর; এবং সেকুলার রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কি ব্যর্থ হতে চলেছে? আপাতত আজ সকালের একটি খবর ও কাল রাতে একটি ছবির যোগসূত্র এবং রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে কিছু লিখছি।

ইউক্রেন-রাশিয়ার বৈঠক ব্যর্থ। মার্কিনদের শিগগিরই ইউক্রেন ছাড়তে বললেন বাইডেন। আজকের পত্রিকার শিরোনাম। কী হতে যাচ্ছে? আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কোন দিকে যাবে? ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের এই আপাত বাদানুবাদ স্নায়ুযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়। ইউরোপকে কি ফের ‘যুদ্ধের দুঃস্বপ্ন’ দেখতে হতে পারে? রুশ ‘রেড লাইন’ তারপর কী?

ইতোমধ্যে পোল্যান্ডে পৌঁছেছে মার্কিন সেনাদের দল। পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো মিত্রদের শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার দ্বন্দ্ব বিশ্বকে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কাল একটি ছবি দেখলাম- The Coldest Game.

১৯৬২ সালে কিউবার মিসাইল ক্রাইসিস এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার দাবা খেলাকে কেন্দ্র করে ছবিটি তৈরি হয়েছিল এবং সেই খেলাটি হয়েছিল পোল্যান্ডে। ছবিটি ২০১৯ সালে মুক্তি পায়। কিছুটা সত্য কাহিনি এবং সেই সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে দাবা খেলার আড়ালে। স্নায়ুযুদ্ধের ওপর বেশকিছু ছবি হয়েছে। ‘দি কোল্ডেস্ট গেম’ এর পুরো কাহিনি লিখছি না। দাবা খেলা নিয়ে আমার বাসায় বিশেষ আগ্রহ আছে। আমার দুই ছেলের সাথে আমার প্রতিদিনই খেলা হয়। ছোটবেলায় আয়মানকে ইচ্ছে করেই জিতিয়ে দিতাম। এখন বেশিরভাগ সময় ওই জিতে যায়। আর খেলাটি শিখেছিলাম আবার বাবার কাছ থেকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের যে দীর্ঘ কয়েক দশকব্যাপী দ্বন্দ্ব এবং উত্তেজনা চলেছে, তাকে স্নায়ু যুদ্ধ বলে ধরে নেয়া হয়, কোল্ড ওয়ার বা শীতল যুদ্ধ ও বলা হয়। একদম সহজ ভাষায় শীতল যুদ্ধ হচ্ছে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব কিন্তু সরাসরি কোনো যুদ্ধ নয়। প্রায় পাঁচ দশকব্যাপী সময়কালে এই দুই শক্তিশালী দেশের মধ্যকার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক মতানৈক্য আন্তর্জাতিক রাজনীতির অবয়ব বদলে দিয়েছিল।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান মিত্র ছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, জাপান ও কানাডা। আর সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে ছিল পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশ, যেমন বুলগেরিয়া , চেকোশ্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, পূর্ব জার্মানি ও রোমানিয়া। স্নায়ুযুদ্ধের কিছুকাল যাবৎ কিউবা এবং চীন সোভিয়েতদের সমর্থন দেয়। এখন আবারও চীনের সাথে রাশিয়ার মধুর সম্পর্ক চলছে। যদিও সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেই ১৯৯১ সালে ভেঙে অনেকগুলো স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেই সাথে শীতল যুদ্ধও শেষ হয়। কিন্তু ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল মিত্রশক্তি। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।

সেই অবিশ্বাস্য মাত্রার রেষারেষি যদিও এখন আর নেই কিন্তু রুশ-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনা এখন আবারও বিপজ্জনক হতে পারে।

মাঝে পুতিনের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক কিছুদিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ নীতিতে জটিলতা তৈরি করেছিল। মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ সামলাতে যখন এফবিআই গলদঘর্ম হচ্ছিল সেসময় মি. ট্রাম্প পুতিনের গুণগানে ব্যস্ত ছিলেন এবং একইসাথে ন্যাটোকে অবজ্ঞা করছিলেন। কিন্তু বাইডেনের নীতিতে মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি যুদ্ধ বেধে যেতে পারে, নাকি আরেক স্নায়ুযুদ্ধের সূত্রপাত?

লেখক: হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply