ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধের দামামা, মুখোমুখি রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র

|

ইউক্রেন সীমান্তে মুখোমুখি রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে উত্তেজনার মাঝেই কিয়েভে বিপুল সামরিক সরঞ্জাম পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র। গত শনিবার (২২ জানুয়ারি) মার্কিন প্রশাসন জানায়, প্রথম চালানই ছিল ২০ কোটি ডলারের। এদিকে, আন্তর্জাতিক নিন্দা-সমালোচনার মধ্যেও সীমান্তে সামরিক মহড়া বহাল রেখেছে রাশিয়া। ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধের এই দামামার মাঝেও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সহিংসতা এড়ানোর তাগিদ দিলো জাতিসংঘ।

সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবেলায় এতোদিন হুমকি-হুঁশিয়ারি দিয়ে এলেও শনিবার কিয়েভে বিপুল সামরিক সরঞ্জাম পাঠালো মার্কিন প্রশাসন। পেন্টাগন মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, সীমান্তে লাখো সেনা মোতায়েন রেখেছে রুশ সরকার। তাদের মহড়ায় দিনদিনই বাড়ছে উদ্বেগ। আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে আগামী সপ্তাহে কিয়েভ যাবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারপরও, মিত্রদের নিরাপত্তা এবং ন্যাটোর সহযোগিতায় পাঠানো হলো সামরিক সরঞ্জাম।

বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো বলেছেন, আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু ইউক্রেন ও পশ্চিমারা যদি ক্রমাগত খোঁচাতে থাকে, তাহলে চুপ থাকবো কেনো? তারা শত্রুতা বাড়াচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ঠেলে দিচ্ছে খাদের কিনারায়। যার উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হবে। হুঁশিয়ার করছি, লড়তে আসবেন না! তাহলে, দেখতে হবে চরম পরাজয়।

ইউক্রেন সীমান্তে চলমান সামরিক মহড়ার মাঝেই শনিবার সে অঞ্চলে নতুনভাবে ১২টি ‘সুখয়- থার্টি ফাইভ ফাইটার জেট’ এবং মিসাইল সিস্টেম ‘পান্তসির’ পাঠালো রাশিয়া। এছাড়া, ট্রেনের মাধ্যমে হামলা ঠেকাতে দুটি ‘এস- ফোর হান্ড্রেড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও যাচ্ছে বেলারুশ সীমানায়।

এমন টানাপোড়েনের মধ্যেও আশাবাদী জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, শিগগিরই সংলাপের মাধ্যমে দেখতে চান সমাধান। অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাবে না রাশিয়া। কারণ, অঞ্চলটিতে কোনো নাটকীয় পরিস্থিতি দেখতে চাই না আমরা। বর্তমানে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, সেটিরও দ্রুত অবসান দরকার। সেক্ষেত্রে, শান্তি আলোচনাই হতে পারে সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।

এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থনে কথা বলায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন জার্মান নৌবাহিনীর প্রধান কে আশিম শনবাখ। শনিবার তিনি পদত্যাগও করেন।

এম ই/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply