পর্যটনের দেশ মালদ্বীপের চেয়ে কোথায় পিছিয়ে বাংলাদেশ?

|

পাখির চোখে নয়নাভিরাম মালদ্বীপ।

আবদুল্লাহ তুহিন:

সাগরের বুকে প্রায় বারোশো দ্বীপের সমষ্টি নিয়ে পর্যটনের দেশ মালদ্বীপ। প্রতি বছর ইউরোপ আমেরিকা’সহ বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে ছুটে আসেন লাখো পর্যটক। সাগর পাড়ের দেশ হয়েও পর্যটন শিল্পে মালদ্বীপের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশ মালদ্বীপ। সমুদ্রপিষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতা মাত্র দুই দশমিক তিন মিটার অর্থাৎ প্রায় ৭ ফুট। আর গড় উচ্চতা ৫ ফুটেরও কম। দেশটিতে নেই বিস্তীর্ণ কোনো ভূমিও। গভীর সমুদ্রের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট দ্বীপ ছাড়া তেমন কিছুই নেই মালদ্বীপে। আবহাওয়া বেশ গরম। তারপরও ভ্রমণপিয়াসীদের ভিড় লেগেই থাকে এখানে।

ভারত মহাসাগরে গভীর নীল রাজ্যে ডলফিনের অবাধ বিচরণ, তাদের জলকেলী বিস্ময় জাগায় পর্যটকদের মনে। গাঢ় নীল পানিতে ঘেরা ২৬টি প্রবালদ্বীপসহ ১ হাজার ২শ ছোট ছোট আইল্যান্ডের মধ্যে কেবল ২০০টি বাসযোগ্য এখানে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আমন্ত্রণ জানানো হয় বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ডের সব রিসোর্টের শাখাগুলোতে। মালদ্বীপের এক প্রবাসী বাঙালি জানান, সাধারণ মানুষজন এখানে আসতে পারবেন না, আসবেন কেবল ভিআইপিরা; কারণ, রিসোর্টের দাম বেশি।

দ্বাদশ শতক থেকেই মুসলিম শাসনে থাকা মালদ্বীপের সৌন্দর্য দেখতে ১৩৪৩ খ্রিস্টাব্দে ঘুরতে এসে অবাক হয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা। মুগ্ধ এখনকার পর্যটকেরাও। জানান, কোনো ময়লা পাওয়া যায়নি বিচে। আরেকজন বলেন, এখানকার মানুষ দারুণ বিনয়ী ও অতিথিপরায়ণ। তাছাড়া সাগরের পানিও অনেক পরিষ্কার।

গভীর সমুদ্রের মাঝে সবুজে ঘেরা ছোট ছোট দ্বীপ। দেখা মেলে সবুজাভ নীল পানি। তার পাশে আবার ধূ ধূ সাদা বালুচর। এমন অসংখ্য বৈচিত্রের অধিকারী ছোট্ট দেশ মালদ্বীপ। সাগরবেষ্টিত এমন অনেক সৌন্দর্যের কমতি নেই বাংলাদেশেও, কিন্তু ইউরোপ আমেরিকার মতো পর্যটক আকৃষ্ট করতে পারছি না কেন? এই প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী শিক্ষক মীর সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে এখানকার ট্যুরিস্ট স্পটগুলো অনেক বেশি নিরাপদ। ইউরোপ আমেরিকার ভ্রমণপিয়াসীরা তাই আশ্বস্ত হয়েছে যে, ঘুরতে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কোনো অভাব এখানে হবে না। এই ব্যাপারটা তাই নিশ্চিত করতে হবে। আপনি যদি আমাকে ১০ হাজার টাকা দেন তাহলে আমি দেশের কথা ভুলে যাই। আমি বলছি না যে, এদেশের মানুষের মাঝে অসততা নেই। তবে তার একটা মাত্রা থাকে। দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে এখানকার মানুষ কখনোই কিছু করবে না।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশ নদীমাতৃক। আমাদের দেশেও সাগর আছে। কিন্তু পরিচ্ছন্নতা ও পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে আমাদের। পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় আচরণ এখনও আমরা শিখে উঠতে পারিনি।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply