রাতে হঠাৎ মাটির কয়েক ফুট নিচে দেবে গেলো বাড়িঘর, আতঙ্কে স্থানীয়রা

|

নদীপাড়ের ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে।

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুর নগরকান্দা উপজেলা সদরের কুমার নদের পাড়ের একটি মন্দিরসহ ১০টি বাড়ি হঠাৎ ১০-২০ ফুট দেবে গেছে, ভেঙে পড়েছে পাকা স্থাপনাও। পাড় জুড়ে দেখা গেছে ফাটল। ঝুঁকিতে রয়েছে নগরকান্দা সরকারি এম এন একাডেমির ভবন, থানা ভবন ও বাজারের কেন্দ্রীয় কালি মন্দির ভবনসহ পৌর বাজার।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো নিম্ন আয়ের সনাতন ধর্মালম্বীদের। আতঙ্কে নদীর পাড়ের বাড়ি থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয়রা। তারা জানান, কিছুদিন আগেই সরকারিভাবে কুমার নদ খনন করা হয়েছে। নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে কাজটি বাস্তবায়ন করেছে বেঙ্গল গ্রুপ। এর ফলেই বাড়ি ঘর দেবে যাওয়ার মতো এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খননের সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কিছু লোক ও স্থানীয়দের ককেজন মিলে অপরিকল্পিতভাবে নদীর এক পাশ খনন করেছে। নদী থেকে উত্তোলিত বালু বিক্রির জন্যই এসব করেছে চক্রটি। যার ফলেই ভেঙে পড়ছে নদীর পাড়ের বাড়িগুলো।

নগরকান্দা সরকারি এম এন একাডেমীর নবনির্মিত ভবন, থানার নবনির্মিত ভবন, বাজারের কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের ভবন, একাধিক আবাসিক ভবনসহ পৌর বাজারের একাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া এলাকায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে, যা প্রায় ৬-৭ ফুট গভীর।

ক্ষতিগ্রস্ত উজ্জল মালো বলেন, কয়েকদিন যাবৎ একটু ফাটল দেখা গিয়াছিল। সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে হুড়মুড় শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি আমার পাশের ঘর ভেঙ্গে নদীতে পড়ে গেছে। পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসি। এমন সময় আমার একতলা ভবনটিও চোখের সামনে ভেঙ্গে পড়ে যায়।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান জানান, সোমবার সকালে ফাটল দেখা গেছে। এরপর আস্তে আস্তে বড় হয় সেই ফাটল। রাতেই ১টি মন্দির ও ১০টি বাড়ি ভেঙ্গে পড়ে। ঝুঁকির মুখে আছে এই ওয়ার্ডের অন্তত ১০০টি বাড়ি।

নগরকান্দা পৌর মেয়র নিমাই চন্দ্র জানান, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বালু বিক্রি করার জন্যই আজ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। না হলে কুমার নদে কখনও ভাঙ্গন হয়নি। পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবেন জানিয়ে পৌর মেয়র বলেন, যারা এখান থেকে বালু বিক্রি করেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নদের পাড়ে ফাটল হওয়ায় আমি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে জানিয়েছি। জেলা সমন্বয় সভায় এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে। নদীর পাড় রক্ষার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

এসজেড/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply