কী ছিল কিমের ট্রেনে?

|

ভিআইপি বহনকারী একটি বিশেষ ট্রেনকে ঘিরে এখন সর্বত্র আলোচনা। গত সোমবার উত্তর কোরিয়া থেকে চীনে গিয়েছিল এই ট্রেনটি। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে এটি। কে ছিল এই ট্রেনে? এতক্ষণে এটা অনেকটাই নিশ্চিত যে, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন ছিলেন সবুজ রঙের এই বিশেষ ট্রেনে।

কী ছিল কিমের এই বিশেষ ট্রেনে? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। সাথে তুলে এনেছে আরও কিছু পর্যবেক্ষণ। তারা বলেছে কিমের মতোই ট্রেনে করে বিদেশ সফরে যেতেন তাঁর বাবা ও দাদু। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ তারা জানাচ্ছে, ট্রেনটিতে কমপক্ষে ২১টি বগি রয়েছে। এই বগিগুলোতে আছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।

২০০৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মূলত তিনটি ট্রেনের বহর নিয়ে বিদেশে যান কিম। তাঁর বাবাও এভাবেই যাতায়াত করতেন। বহরের প্রথমে থাকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একটি উন্নতমানের ট্রেন। এরপরই থাকে উত্তর কোরীয় নেতাকে বহনকারী ট্রেন। আর সবার শেষে থাকে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী, দেহরক্ষী ও প্রয়োজনীয় রসদ বহনকারী আরেকটি ট্রেন।

কিমকে বহনকারী ট্রেনের প্রত্যেকটি বগিই বুলেটপ্রুফ। এগুলোর ওজনও সাধারণ বগির তুলনায় অনেক বেশি। ওজন বেশি থাকায় ট্রেনের গতি অপেক্ষাকৃত কম। ধারণা করা হয়, কিমের সবুজ ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৩৭ মাইলের মতো।

২০০৯ সালের ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, তিনটি ট্রেনের প্রথমটিতে প্রায় ১০০ নিরাপত্তাকর্মী থাকে। তারা রেলস্টেশন ও রেললাইনে তল্লাশি ও অনুসন্ধান চালায়। বোমা ও অন্যান্য হুমকির মোকাবিলার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে তাদের। ট্রেনবহর চলার সময় আকাশে উড়তে থাকে সামরিক হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজ।

বলা হয়ে থাকে, কিমের এই সবুজ ট্রেনে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। সম্মেলন কক্ষ, ডিনার কক্ষ, ব্যাংকুয়েট হল ছাড়াও আছে অফিস ঘর। ট্রেনে বসেই রাষ্ট্রের সব কাজ করতে পারেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা।

বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়ে থাকে, কিম জং-উনের বাবা কিম জং-ইল উড়োজাহাজে উঠতে ভয় পেতেন। এ কারণেই তিনি ট্রেনে ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এসব ট্রেনে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা আছে। সেই পরম্পরায় কিমও ট্রেনে ভ্রমণ করাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

২০১১ সালে কিম জং-ইলের সফরসঙ্গী রুশ কর্মকর্তা কোনস্টানটিন পুলিকোভস্কি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ওই ট্রেনে সব ধরনের খাবার পাওয়া যেত। ইচ্ছে করলেই রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, জাপান ও ফ্রান্সের যেকোনো খাবারের অর্ডার করা যেত। ট্রেনটি বিভিন্ন স্পটে থেমে থেমে রসদ নিত বলে জানান তিনি। প্যারিস থেকে বিশেষ ধরনের মদের সরবরাহ ছিল এই ট্রেনে।

অন্যান্য গণমাধ্যমের বরাতে টাইমস জানাচ্ছে, সুইস চিজ ও ক্রিস্টাল শ্যাম্পেন বেশি পছন্দ করেন কিম। তার একঘেয়েমি কাটাতে ট্রেনে নারীদের একটি দল থাকে। বাহির থেকে ভেতরের যাত্রীদের দেখার কোনো উপায় নেই। যার কোনো একটিতে ছিলেন কিম জং উন।

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply