এক নজরে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী প্রধান বিপিন রাওয়াত

|

বিপিন রাওয়াত। ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ভারতের সম্মিলিত সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াত। বুধবার দুপুরে তামিলনাড়ুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হেলিকপ্টারের ১৪ আরোহীর মধ্যে ১৩ জনেরই মৃত্যুর কথা জানিয়েছে ভারতীয় প্রশাসন। যাদের মধ্যে আছেন বিপিন রাওয়াতের স্ত্রীও। এ ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পুরো ভারত। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

হেলিকপ্টারের কোনো অংশ আর অক্ষত নেই। কুন্নুরের বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হবার পরই আগুন ধরে যায় এমআই সেভেন্টিন কপ্টারটিতে। সুলুর সেনাঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা সামরিক হেলিকপ্টারটির গন্তব্য ছিল ওয়েলিংটন। যাতে ছিলেন, ভারতের সম্মিলিত সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াত। তবে আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণ পরই আছড়ে পড়ে হেলিকপ্টারটি। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কপ্টারটির মোট আরোহী ছিল ১৪ জন। ছিলেন বিপিন রাওয়াতের স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা।

১৯৫৮ সালের ১৬ মার্চ উত্তরাখণ্ডের পৌড়ির এক গঢ়ওয়ালি রাজপুত পরিবারে জন্ম বিপিনের। তার পরিবারে সেনাবাহিনীতে যোগদানের ইতিহাস পুরুষানুক্রমিক। বাবা লক্ষ্মণ সিংহ রাওয়াত ছিলেন ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল। সেই রীতি মেনেই সেনাবাহিনীতে যোগদান রাওয়াতের। শিমলার সেন্ট অ্যাডওয়ার্ড স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি যান পুনেতে। খড়কভাসলার ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে। এরপর দেহরাদুনে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে যোগ দেন সেনার ১১ গোর্খা রাইফেলস ব্যাটালিয়নে।

দীর্ঘ কর্মজীবনের বড় অংশ জম্মু ও কাশ্মিরে কাটিয়েছেন রাওয়াত। সোপোরে সন্ত্রাসদমন অভিযান থেকে রজৌরির নিয়ন্ত্রণরেখায় পাক হামলা প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে। পেয়েছেন উত্তম যুদ্ধ সেবা মেডেল, পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেলসহ একাধিক সেনা-সম্মাননা। আফ্রিকার কঙ্গোয় জাতিসংঘের শান্তিসেনার একটি ব্রিগেডের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। মেজর জেনারেল হিসেবে ১৮ নম্বর পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উত্তীর্ণ হওয়ার পর রাওয়াত নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে সেনার ৩ নম্বর কোরের কমান্ডারের দায়িত্ব পান। এরপর হন পুনের দক্ষিণাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের প্রধান। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেনাবাহিনী প্রধানের পদ থেকে অবসর নেয়ার কথা ছিল রাওয়াতের। তার একদিন আগে ভারতের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক পদে তাকে নিযুক্ত করে মোদি সরকার।

ভারতের সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হিসেব দেখা হচ্ছে এই দুর্ঘটনাকে। খবর ছড়ানোর পরই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দেশটির প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন। হতাহতদের জন্য প্রার্থনা চলছে ভারতজুড়ে। সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, দুর্ঘটনা হওয়ার মতো আবহাওয়া ছিল না। এর পাশাপাশি রাওয়াতকে বহনকারী mi-17v5 হেলিকপ্টারটিতে সংযুক্ত ছিল সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে। জেড প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া বিপিন রাওয়াতকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে নাশকতা রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইউএইচ/


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply