এবার রেসলিংয়ের জগতে আরব নারী

|

আরব বসন্ত শুরু হয়েছে প্রায় দু’ দশক হতে চলল। কট্টর ওয়াহাবি মতবাদে শাসিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবও শেষ অবধি নারীদের জন্য উদারীকরণের দ্বার খুলে দিয়েছে।

ধীরে হলেও সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিসরের সব জায়গায় আরব নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার সেই ধারায় ডব্লিউ ডব্লিউ ই রেসলিংয়ের রিংয়ে নামছেন আরব নারী সাদিয়া সেইসো।

কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণ মাধ্যম আল জাজিরা’র প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই চমকপ্রদ তথ্যটি জানা গেছে। ৩১ বছর বয়সী জর্দানের এই দৌড়বিদ কখনও ভাবেননি এমন কিছু করবেন। পেশা শুরু করেছিলেন ক্রীড়া উপস্থাপক ও প্রতিবেদক হিসেবে।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, “অ্যাথলেটিক্সে সাফল্য পেতে চেয়েছিলাম, যাতে খেলাধুলার উপস্থাপক হিসেবে নিজের যোগ্যতাকে আরও বেশি পোক্ত করতে পারি। ওটাই আমার পরিকল্পনায় ছিল।”

পরিকল্পনা ছিল একরকম, মোড় ঘুরে গিয়ে হচ্ছেন আরেক রকম; কীভাবে?

জানুয়ারি ২০১৭, ওয়ার্ল্ড রেসলিং ইন্টারটেইনমেন্ট ইনকর্পোরেশন (ডব্লিউ ডব্লিউ ই) দুবাইয়ে একটি বাছাইয়ের আয়োজন করেছিল। ওখানে তিনি খবর পরিবেশক হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাকে বাছাই করে বসল ডব্লিউ ডব্লিউ ই কর্তৃপক্ষ।

আমন্ত্রণ গ্রহণ করে গত আক্টোবরে সংবাদ প্রতিবেদক সাদিয়া নিজেই সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন। তিনি প্রথম আরব নারী যিনি প্রথমবারের মতো ডব্লিউ ডব্লিউ ই-এর মঞ্চে লড়াইয়ের জন্য চুক্তি সই করলেন।

সাদিয়া বলেন, “এই অঞ্চলের প্রথম নারী হিসেবে আমি গর্বিত। অ্যাথলেট, এন্টারটেইনার, এবং প্রথম আরব নারী হিসেবে আমি এই অঞ্চলেও মানুষকেও গর্বিত করতে চাই।” এটি অত্যন্ত বড় একটি বিষয়, এবং অনেক বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডব্লিউ ডব্লিউ ই-এর সঙ্গে চুক্তির আওতায় সাদিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের অরল্যান্ডোতে প্রশিক্ষণ নেবেন। ডব্লিউ ডব্লিউ ই কর্তৃপক্ষ বলছে, “সাদিয়ার অ্যাথলেটদের মতো সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, স্বভাবসিদ্ধ প্রতিভা তাকে এই সুযোগ এনে দিয়েছে।”

সাদিয়া বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডব্লিউ ডব্লিউ ই অবধি পথটা সোজা-সাপ্টা নয়। আপনি অনেক আরব অ্যাথলেট দেখবেন। কিন্তু তারা বড় হয়েছে কানাডা কিংবা ব্রিটেনে; এই অঞ্চল থেকে নয়।”

তিনি আরও বলেন, “এই কারণে এটি বর্তমানে নতুন প্রজন্ম ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সুযোগ। মধ্য প্রাচ্যে বেড়ে ওঠা মেয়ে ও ছেলেরা বলতে পারে: আমি ডব্লিউ ডব্লিউ ই-এর সুপার স্টার হতে চাই।”

সাদিয়ার জন্ম জর্ডানের রাজধানী আম্মানে। লেবাননে একটি রেডিও অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে তিনি তার পেশাগ জীবন শুরু করেন। ওখানে থেকেই আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত থেকে ব্যবসায় অধ্যয়নে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

স্নাতক শেষ করা পর তিনি দুবাইতে চলে আসেন। সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব কোম্পানি এসডিবি মিডিয়া। পেপসি, পোরশে, নাইকি’র মতো নামী-দামি কোম্পানির অনুষ্ঠান সঞ্চালনার মাধ্যমে তিনি এই ক্ষেত্রে বেশ পরিচিত মুখ হয়ে ‍ওঠেন।

যমুনা অনলাইন: এফএইচ









Leave a reply