জাওয়াদের প্রভাবে পটুয়াখালীতে আমন, ডাল ও তরমুজের ক্ষতির আশঙ্কা

|

পটুয়াখালীতে টানা বৃষ্টিতে ক্ষতি হচ্ছে ফসলের।

স্টাফ রিপোর্টার:

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে পটুয়াখালীতে আমনের ফলন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। তবে ক্ষেতে জমানো পানি শুকিয়ে বা নেমে গেলে তেমন একটা ক্ষতি নাও হতে পারে বলে দাবি করছেন পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম মহিউদ্দিন।

তিনি জানান, জেলায় এবার এক লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ফসলের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। বাকী যে পরিমাণ ফসল মাঠে রয়েছে এর মধ্যে শুধুমাত্র দেশীয় প্রজাতির আমন ফসল জাওয়াদের কারণে সৃষ্ট বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

বৃষ্টিতে আমন, ডালও ও তরমুজের ফলন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

তাছাড়া বেড়িবাঁধের বাইরে যেসব এলাকায় পাকা ফসলের ক্ষেত রয়েছে, সেখানে যদি পানি জমে থাকে তাহলেও ক্ষতি হতে পারে। ওই কর্মকর্তার মতে, যেহেতু এ অঞ্চলের কোন জমিতেই পানি জমে থাকেনা সেহেতু আমন ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হবেনা। তাছাড়া যেসব এলাকায় দেশীয় প্রজাতির আমন ক্ষেতে পাকা ধান গাছ পড়ে গেছে সেগুলোতেও পানি জমে না থাকলে কৃষকরা তা ঘরে তুলতে পারবে। তবে আমন উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষমাত্রায় কোনো কমতি হবেনা বলে তিনি আশাবাদী।

একেএম মহিউদ্দিন জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবার আশঙ্কা রয়েছে খেসারির ডাল উৎপাদনে। জেলায় এ বছর ৪ হাজার হেক্টর জমিতে খেসারির ডালের আবাদ হলেও সেখানে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে জমির ফসল আংশিক ক্ষতি হতে পারে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে একেএম মহিউদ্দিন আরও জানান, রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়ার অনেক চাষী প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করেছেন। এর মধ্যে গত দুইদিনে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিতে তরমুজ আবাদে সমস্যা দেখা দিযেছে। বিশেষ করে বেড়িবাধের বাইরের অনেক স্থানে এসব বীজ নষ্ট হবার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে দুই-এক দিন পার না হলে বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বের করা সম্ভব না বলেও তিনি জানান।

এদিকে জেলা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. মাসুদ রানা জানান, আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ২৯.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত আরও ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ২৪ ঘন্টা জেলায় ভারী বর্ষণের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

/এসএইচ


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply