মার্কিন সামরিক বাহিনীতে অস্ত্র চুরি, জড়িত সেনাসদস্যরাই

|

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক চুরির ঘটনা ঘটেছে। একটি দুটি নয়, গেলো এক দশকে ২ হাজারের বেশি অস্ত্র চুরি হয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগার থেকে। বার্তা সংস্থা এপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন ভয়াবহ তথ্য। যার সাথে জড়িত খোদ সেনা সদস্যরাই।

দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ কিংবা আগ্নেয়াস্ত্রের মহরা সামরিক বাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ আলোচনায় এসেছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরির ঘটনায়। এপির একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ দশকে ২ হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র চুরি গেছে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে। খোঁজ নেই, কয়েক হাজার গ্রেনেড এবং শতাধিক পাউন্ড বিস্ফোরকের।

মার্কিন সেনা বাহিনী লেফটেনেন্ট রেইস জ্যাকবসন বলছেন, অস্ত্র এবং বিস্ফোরক বেহাত হয়ে যাওয়াটা খুবই ঝুকিপূর্ণ। যত পুরানো হোক না কেন এগুলো সব সময়ই ভয়ঙ্কর।

অস্ত্র ও গোলাবারুদ খোয়া যাওয়া যতোটা না উদ্বেগের তার চেয়েও ভয়াবহ তথ্য, এসব হাতিয়ে নিয়েছে খোদ বাহিনীর সদস্যরাই। বার্তা সংস্থা এপি অন্তত ৬৩টি ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে যেখানে, অস্ত্র উদ্ধারের পর কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন সেগুলো হারিয়েছিল। অস্ত্র চুরির দায়ে ২ সেনা সদস্যকে বিচারের মুখোমুখিও হতে হয়। চুরির ঘটনা শিকারও করেন তারা।

অস্ত্র চুরিতে অভিযুক্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক সাবেক সার্জেন্ট অ্যালেক্স ক্র্যাসোভেক বলেন, কিছু বিস্ফোরক সরিয়েছিলাম বাড়িতে নেয়ার উদ্দেশ্যে। ভেবেছিলাম সেগুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের সাথে মজা করবো। তবে এগুলো বিক্রি কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।


ট্রেভিস গ্লসার, অভিযুক্ত আরেক সাবেক সার্জেন্ট বলেন, ২০১৬ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। মনে হচ্ছিল যদি হিলারি ক্লিনটন নির্বাচনে যেতে তাহলে দেশজুড়ে সহিংসতা সৃষ্টি হবে। সেই ভয়ে পরিবারকে রক্ষার জন্য আমি কিছু গ্রেনেড সরিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে রাখি।

আরও পড়ুন : সেনাবাহিনীর জন্য পরিবেশবান্ধব ক্যামোফ্লেজ আনছে ভারত

ভয়ানক অস্ত্র ও বিস্ফোরক বেহাত হওয়ায় ঘটেছে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেছে সাধারণ মানুষের। এসব চুরি এবং দুর্ঘটনা তদন্তে নেমেছে মার্কিন কংগ্রেসও।

/এডব্লিউ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply