‘এ অঞ্চলে নারীর অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে’

|

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শতবর্ষপূর্তি ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হলে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বাংলাদেশ মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ। এ সময় ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল।

শতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বুধবার দিনভর ছিল নানা আয়োজন। প্রথম উদ্বোধনী পর্ব, দ্বিতীয়টি আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শতবর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে পাঁচ মাস দেরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান হচ্ছে।

দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু শ্রেণিকক্ষে নয়, গ্রন্থাগার ও আবাসিক হল থেকেও শিখেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকাটা অন্যদের মতো আমার জীবনেরও অবিস্মরণীয় স্মৃতি। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের মাতৃসম। রাষ্ট্র ও সমাজে যেখানে পিতৃতান্ত্রিকতা আছে, তার ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয় মায়ের মতো তার সন্তানদের লালন করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আমরা মায়ের মতোই শিক্ষা পেয়েছি।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানের চর্চা করেছে এবং জ্ঞানের চর্চার ভেতর যে নৈতিকতা ও সংবেদনশীলতা থাকা দরকার, সেটিও এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শিখিয়েছে। প্রতিষ্ঠার সময় মনে করা হয়েছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ‘মক্কা’ বিশ্ববিদ্যালয় হবে। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহজাগতিকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দাঙ্গায় জড়িত হয়নি, দাঙ্গা থামাতে চেয়েছে। এ অঞ্চলে নারীর অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমরা অনেকভাবে ঋণী। সেই ঋণ আমরা পরিশোধ করতে পারবো না। কোনো ঋণ আছে, যেগুলো পরিশোধ না করা ভালো এবং সেই ঋণগুলো যতো বাড়ে, ততই ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমাদের ঋণ সেই রকমের।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তারই ফলে ২৫ মার্চের কালরাতে এখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায় তারা। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও ১৪ ডিসেম্বর এখানে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। বাংলাদেশের একটি স্বতন্ত্র সত্তা অর্জনে প্রধান ভূমিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, বিগত ১০০ বছরের অগ্রযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। শুরুর এক দশকে এই বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে বিশ্বদরবারে সুনাম অর্জন করেছিল, দুঃখজনক হলেও সত্য যে সেই অগ্রযাত্রার গতি ধরে রাখা নানা কারণেই সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমার বিনীত নিবেদন, ভৌত মহাপরিকল্পনার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রয়োজন। সুনাগরিক ও বিশ্বনাগরিক গড়ে তুলতে উচ্চশিক্ষায় যে পুনর্গঠন বা পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন, তা সম্পন্ন করে শিক্ষা-জ্ঞান-দক্ষতা ও গবেষণার অ্যাকাডেমিক মহাপরিকল্পনা তৈরি করুন।

অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ ও তার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান প্রত্যক্ষ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ধর্মনিরপেক্ষ ভাষাকেন্দ্রিক গৌরব প্রতিষ্ঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যা করেছে, এ জন্য গোটা বিশ্ব তাকে কুর্নিশ জানায়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের তথ্যচিত্র ও থিম সং পরিবেশন করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত গ্রন্থ, ফটোগ্রাফি অ্যালবাম ও ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন। শতবর্ষের আয়োজন উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। দিনভর সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস।

ইউএইচ/


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply