ভারতে ফের আলোচনায় ‘লাভ জিহাদ’

|

ছবি: সংগৃহীত

মীর মুশফিক আহসান:

ভারতে আবারও আলোচনায় ‘লাভ জিহাদ’। হিন্দু ধর্মাবলম্বী তরুণীকে বিয়ে করতে চাওয়ায় কর্ণাটকে হত্যা করা হয়েছে এক মুসলিম যুবককে। আরবাজ মোল্লা নামের ওই যুবককে হত্যার পর রেল লাইনের ওপর মরদেহ ফেলে রাখা হয়। অভিযোগ ওঠে, তরুণীর বাবা-মা’র নির্দেশেই আরবাজকে হত্যা করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।

সন্তানের এসব স্মৃতিই এখন শেষ সম্বল নাজিমা শেখের কাছে। ছেলে আরবাজের পুরনো ভিডিও দেখে এখন শুধু চোখের পানিই ফেলতে পারেন তিনি। হিন্দু ধর্মের অনুসারী তরুণীকে বিয়ে করতে চাওয়ায় হত্যা করা হয় আরবাজকে।

নিহত আরবাজ মোল্লার মা নাজিমা শেখ বলেন, আমার সন্তান তো কাউকে হত্যা করেনি, চুরিও করেনি, ডাকাতিও করেনি। তাহলে কেনো তাকে হত্যা করা হলো? ভালোবাসা কি অপরাধ?

কর্ণাটকের বেলেগাভিতে বাস করতেন আরবাজ মোল্লা। ২০১৮ তে পরিচয় হয় শ্বেতা কুম্ভারের সাথে। দু’জন বিয়ে করতে চাইলে মেনে নেয়নি হিন্দু ধর্মের অনুসারী শ্বেতার বাবা-মা। হুমকি দেয়া হয় আরবাজকে হত্যার। ২৮ সেপ্টেম্বর রেল লাইনের কাছ থেকে তার ছিন্ন বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরবাজের মা আরও বলেন, ওই মেয়ের বাবা-মা এসে বলেছিল তারা এই সম্পর্ক কোনোভাবেই মেনে নেবে না। হয় তারা নিজেরা খুন হবে নইলে আমার সন্তানকে খুন করবে। শেষমেশ তাই হলো, ওরা আমার ছেলেকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলো।

ওই ঘটনার পর আবারও ভারতজুড়ে আলোচনায় লাভ জিহাদ এবং এক ধর্মের সাথে অন্য ধর্মের অনুসারীর বিয়ের বিষয়টি। ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের বিয়ের বিরোধিতায় বরাবরই মুখর উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলগুলো। আরবাজ হত্যাকাণ্ডের পর আবারও অভিযোগের তীর এই দলগুলোর দিকে।

শ্রী রাম সেনা হিন্দুস্তানের নেতা রামাকান্ত কন্দুস্কার বলেন, তরুণকে রক্ষা করতে হবে আমাদের। কারণ তাদের রক্ষা করলে দেশ বাঁচবে। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে। তরুণদের সেটাই অনুসরণ করতে হবে।

বিজেপির মুখপাত্র গোপাল কৃষ্ণ বলেন, বিজেপি এ ধরনের বিয়ের বিরোধী নয়। পছন্দ অনুযায়ী যে কেউ কাউকে বিয়ে করতে পারে। তবে কোনো ভয়-ভীতি, চাপ কিংবা অর্থের লোভে এ ধরনের বিয়ে আমরা স্বীকৃতি দেবো না।

কথিত ‘লাভ জিহাদ’ ঠেকাতে, গেলো বছর ধর্মান্তরবিরোধী আইন পাস করে উত্তর প্রদেশ সরকার। নতুন এ আইনে জোরপূর্বক বা কৌশলে ধর্ম পরিবর্তনে কাউকে বাধ্য করলে শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অথচ স্বেচ্ছায় কোনো হিন্দু নারী মুসলিমকে বিয়ে করলেই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

ইউএইচ/


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply