দায় স্বীকার করে যা বললেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক

|

কেপ টাউন টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বল টেম্পারিংয়ের চেষ্টার দায় স্বীকার করে নিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ওপেনার ব্যানক্রফট। এদিকে তাকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে অস্ট্রিলিয়া সরকার। ক্রিকইনফো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে স্মিথ দায় স্বীকার করে যা বলেছেন তা কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

তিনি বলেন, ‘ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে আমার। বলের অবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে আমাকে। লাঞ্চ বিরতির সময় আমাদের মধ্যে একটি আলোচনা হয়েছিল। টেপ ব্যবহার করে, উইকেটের ক্ষত অংশের মাটির দানা ব্যবহার করে বলের কন্ডিশন বদলানো একটি সুযোগ দেখেছিলাম আমি।’

‘যদিও এটা কাজে দেয়নি। আম্পায়াররা তাই বল বদলাননি। আমার ছবি বড় পর্দায় ভেসে ওঠে। সেটা দেখেই আমি চেষ্টা করেছিলাম ট্রাউজারের ভেতর গুঁজে দিতে’, বলেন অজি অধিনায়ক।

বল টেম্পারিংয়ের চেষ্টা করার সিদ্ধান্তটি দলীয় ছিল বলেও জানান তিনি। বলেন ‘লিডারশিপ গ্রুপ এটা নিয়ে জানত। লাঞ্চের সময় আমরা কথা বলেছিলাম। যা হয়েছে, তা নিয়ে আমি গর্বিত নই। খেলার চেতনার সঙ্গে এটি যায় না। আমার সততা, দলের সততা ও লিডারশিপ গ্রুপের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং সেটাই উচিত। অবশ্যই এটা করা উচিত হয়নি এবং আমি প্রতিশ্রুতি দিতে পারি, আমার নেতৃত্বে আর এমন হবে না।’

‘আমি নাম ধরে বলছি না, তবে লিডারশিপ গ্রুপ এটা নিয়ে আলোচনা করেছে। ব্যাঙ্গারস (ব্যানক্রফট) তখন সেখানে ছিল, আমরা আলোচনা করেছি এবং ভেবেছি যে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার একটি উপায় এটি হতে পারে। অবশ্যই সেটি কাজে দেয়নি। আম্পায়ারদের মনে হয়নি, বলের আচরণ বদলে গেছে। অবশ্যই তাই খুব বাজে পছন্দ ছিল এটি। আমরা এজন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত’, বলেন স্মিথ।

টিভিতে দেখা যায়, ড্রেসিং রুম থেকে কিছু একটা ইশারা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন কোচ ড্যারেন লেম্যান। দ্বাদশ ব্যক্তি পিটার হ্যান্ডসকমকে মাঠে পাঠানোও হয়েছিল, হয়ত কোনো বার্তা দিয়ে। তবে কোচদের সম্পৃক্ত থাকার কথা উড়িয়ে দিলেন স্মিথ।

তিনি বলেন, ‘কোচদের কেউ সম্পৃক্ত ছিল না। ক্রিকেটার ও লিডারশিপ গ্রুপেরই ভাবনা এটা। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আর হবে না। যতবার ইচ্ছে প্রশ্ন করতে পারেন, কিন্তু আমি নিশ্চিত করে বলছি যে আমার নেতৃত্ব এটা প্রথমবার হলো। আমরা অনুতপ্ত, এখান থেকে এগিয়ে যেতে চাই সামনে।’

অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক জানান, বল রিভার্স সুইং করছিল না দেখে মরিয়া চেষ্টাতেই এই পথ বেছে নিয়েছিলেন তারা।

বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এই সিরিজে বল বেশ রিভার্স সুইং করেছে। তবে এবার মনে হচ্ছিলো না অতটা করবে। আমাদের দিক থেকে বড় ভুল হয়ে গেছে। খুব বাজে ব্যাপার হয়েছে। আবারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমার নেতৃত্বে এমনটি আর হবে না। আমি বিব্রত। ড্রেসিং রুমে সবাই বিব্রত। দলের নেতা হিসেবে আমি ভীষণ ভাবে দুঃখিত। ধরা না পড়লেও আমি অনুতাপ করতাম।’

সরকার আর তাকে না চাইলেও স্মিথ নিজে অবশ্য দায়িত্ব ছাড়ার কথা ভাবছেন না। বলেন, ‘আমি পদত্যাগের কথা বিবেচনা করছি না। এখনও মনে করি, নেতৃত্বের জন্য আমিই সঠিক ব্যক্তি।’









Leave a reply