নতুন করে যক্ষ্মা আতঙ্ক

|

এক সময় বলা হত, ‘যার হয় যক্ষ্মা, তার নাই রক্ষা।’ কতটা নিরাময় অযোগ্য ও ভয়াবহ হলে কোনো রোগ সম্পর্কে এমন কথা বলা হয়।

বর্তমানে যক্ষ্মার চিকিৎসা রয়েছে। বলতে গেলে বাংলাদেশ থেকে এই রোগটি একদম উঠেই গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবারও নাকি এই রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণ মাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।

কিন্তু কেন?

যক্ষ্মা ভালো করার চিকিৎসার সঙ্গেই মূলত এটি জড়িত বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।

কীভাবে?

প্রতিদেনে বলা হয়েছে, পুরোপুরি চিকিৎসা না করেই অনেকেই ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে ওই সব রোগীদের শরীরে ওষুধ প্রতিরোধী (এমডিআর) যক্ষ্মা দেখা দিচ্ছে। অর্থাৎ যক্ষ্মার জীবাণু গাঠনিক পরিবর্তন ঘটার মধ্য দিয়ে আরও বেশি শক্তিশালী হচ্ছে, এবং এতে বিদ্যমান ওষুধগুলোর কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে।

পাশাপাশি শনাক্তের বাইরে থাকা রোগীরাও নতুন করে এই রোগ ছড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশে ১৯৯৫ থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বা এনটিপি’র আওতায় প্রায় ত্রিশ লাখ যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় বিশ হাজার শিশুও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকার বিজ্ঞানী ড. সায়েরা বানু বলেন, প্রতি বছর যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ। কিন্তু অনেক রোগী ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে ওষুধের পুরো কোর্স খান না। এতে তার শরীরে জন্ম নিচ্ছে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার জীবাণু। তিনি হয়ে পড়ছেন ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা রোগীতে।

ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা রোগীদের জন্য অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় বলে জানিয়েছেন সায়রা বানু।

দেশে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা রোগী সনাক্তকরণে পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে কিনা- এ বিষয়ে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, এ ধরনের রোগী সনাক্তকরণে ১৯৩টি অত্যাধুনিক জিন এক্সপার্ট যন্ত্র বাংলাদেশে আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই ঘণ্টায় পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

তবে যক্ষ্মার নিরাময় ও বিস্তার রোধে সারাদেশে সর্বস্তরে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগগুলোকে সমন্বয়কে করে যক্ষ্মা বিষয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করা অতীব প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনটিতে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

যমুনা অনলাইন: এফএইচ









Leave a reply