স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকা: আ. লীগ-বিএনপি’র কথার লড়াই

|

জার্মান প্রতিষ্ঠান বেরটেলসম্যান স্টিফটুংয়ের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ‘স্বৈরশাসনের অধীনে’ চিহ্নিত করা নিয়ে কথার লড়াইয়ে জড়িয়েছে আওয়ামী লিগ ও বিএনপি। দলদুটির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকদের এ বিষয়ে মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক রূপ প্রতিফলিত হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এর মাধ্যমে বিএনপি’র অভিযোগই
আন্তর্জাতিক বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত লজ্জাবোধ করছি ও নিন্দা জানাচ্ছি। স্বৈরতান্ত্রিক সরকার এ জায়গায় নিয়ে গেছে দেশকে।

শনিবার দুপুরে, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে একথা বলেন মির্জা ফখরুল।

এদিকে, একনায়কতান্ত্রিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া জার্মান গবেষণা প্রতিবেদনকে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি উদযাপনের মুহূর্তে জার্মান প্রতিবেদন প্রকাশ ষড়যন্ত্রেরই অংশ। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় বলেও মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীলের বদলে দরিদ্রতম দেশের তালিকায় থাকতো।

উল্লেখ্য, জার্মান প্রতিষ্ঠান বেরটেলসম্যান স্টিফটুংয়ের প্রতিবেদনটি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সমীক্ষা চালিয়ে তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে, বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে পাঁচটি দেশের কথা- বাংলাদেশ, লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া ও উগান্ডা।

রিপোর্টে বলা হচ্ছে, এ পাঁচটি দেশ এখন আর গণতন্ত্রে নূন্যতম মানদণ্ড পর্যন্ত মানছে না। এসব দেশে বহু বছর ধরেই গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন করা হচ্ছিল। এসব দেশের ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণেই এটা ঘটেছে বলে মন্তব্য করা হয় রিপোর্টে। ১২৯ দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে যে সূচক এ সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০ নম্বরে। একই অবস্থানে আছে রাশিয়া।

রিপোর্টে ১২৯টি দেশের মধ্যে ৫৮টি দেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং ৭১টি দেশকে গণতান্ত্রিক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ২০১৬ সালে তাদের আগের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিশ্বের ৭৪টি দেশে গণতান্ত্রিক এবং ৫৫টি দেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চলছে।

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply