অভিবাসন প্রত্যাশীদের গণকবর ইংলিশ চ্যানেল

|

ফ্রান্স এবং ব্রিটেন এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ইংলিশ চ্যানেল পরিণত হবে অভিবাসন প্রত্যাশীদের গণকবরে। শরণার্থী বিষয়ক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এমনই শঙ্কা প্রকাশ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, অভিবাসীদের ঢল ঠেকাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। এদিকে, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন সীমান্তে অস্থায়ী ক্যাম্প উচ্ছেদের পর চরম বিপাকে অভিবাসন প্রত্যাশীরা।

অনুমতি না থাকায় ফ্রান্সের গ্র্যাঁ-সিঁথে এলাকায় শরণার্থীদের অস্থায়ী ক্যাম্প উচ্ছেদ করছে পুলিশ। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে তীব্র শীতে চরম বিপাকে পড়েছেন সেখানে আশ্রয় নেয়া অভিবাসনপ্রার্থীরা। মাটিতে বসেই খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। কেউ আবার কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

অভিবাসনপ্রার্থীরা বলছেন, সারারাত রাস্তায় বসে ছিলেন তারা। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই, দুদিন ধরে না খেয়ে আছেন অনেকেই।

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকাডুবিতে বেশ কয়েক দফা অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যুর পর কঠোর অবস্থানে ফ্রান্স সরকার। কোথাও আশ্রয়প্রার্থীদের ক্যাম্প দেখলেই তা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী অ্যানা রিশেল বলছেন, রাষ্ট্রনেতারা কিছু হলেই শুধু মানবপাচারকারীদের দোষ দেন। কিন্তু দায়টা কি শুধুই মানবপাচারকারীদের! প্রতিদিন এই যে শত শত মানুষ সাগরপাড়ি দিয়ে ইউরোপের দিকে ছুটছে, এর দায় রাষ্ট্রনেতাদের। কারণ পুরো সংকটটাই রাজনৈতিক।

কড়াকড়ি আরোপ করেছে ব্রিটেনও। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে নিরাপত্তা বৃদ্ধি কিংবা কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে না, প্রয়োজন রাষ্ট্রনেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। এর ব্যত্যয় হলে অভিবাসন প্রত্যাশীদের গণকবরে পরিণত হবে ইংলিশ চ্যানেল।

রিফিউজি কাউন্সিল প্রধান এনভার সলোমন বলছেন, শরণার্থীদের ইউরোপ প্রবেশের জন্য অন্যতম পথ এই ইংলিশ চ্যানেল। অথচ ইউরোপীয় নেতারা এই সংকটের সমাধান না করে একে অপরের ওপর দোষারোপের রাজনীতি করছে। অথচ এখনই যদি ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তাহলে এই অঞ্চল পরিণত হবে শরণার্থীদের কবরস্থানে।

চলতি বছর প্রায় ৪৭ হাজার মানুষ ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশের চেষ্টা করে। অনুপ্রবেশকারীদের সহায়তার জন্য আটক করা হয় দেড় হাজারের বেশি মানবপাচারকারী।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply