সতীর্থের ‘সেক্স-টেপ কাণ্ডে’ দোষী প্রমাণিত হলেন করিম বেনজেমা!

|

ফ্রান্স জাতীয় দলের সতীর্থ ম্যাথিউ ভালবুয়েনার ‘সেক্স-টেপ’ সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনায় তাকে ব্ল্যাকমেইলের দায়ে এবার প্রমাণিত দোষীর সিলই পড়লো করিম বেনজেমার গায়ে। আজ বুধবার ফ্রান্সের এক আদালতে বিচারক বেনজেমাকে এক বছরের ‘স্থগিত কারাদণ্ড’র পাশাপাশি ৭৫ হাজার ইউরো (প্রায় ৭২ লাখ টাকা) জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। 

এদিকে রায় ঘোষণার সময় ভার্সাইলের সেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না বেনজেমা। চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ খেলতে তিনি এই মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদ দলের সঙ্গে মলদোভায় আছেন। সেখানে আজ রাতে তার দল রিয়াল মুখোমুখি হবে শেরিফ তিরাসপোল। বেনজেমার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

উল্লেখ, স্থগিত কারাদণ্ডাদেশের অর্থ হচ্ছে, জেলে যেতে হবে না বেনজেমাকে। এক বছরের জন্য কিছু শর্ত মেনে অনেকটা স্বাভাবিক জীবনই যাপন করবেন তিনি এবং সেসবের কোনোরকম ব্যত্যয় ঘটলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিতে পারেন। তবে ক্রিমিনাল রেকর্ডে তিনি আদালত কর্তৃক ফৌজদারি অপরাধে এক বছরের সাজা পাওয়া আসামী হিসেবেই নথিভূক্ত থাকবেন।

২০১৫ সালের এ মামলায় গত মাসে ফ্রান্সের আদালতে শুরু হয়েছিল ৩৩ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমার বিচার। তার বিরুদ্ধে অপরাধ, তিনি ম্যাথিউ ভালবুয়েনার বেহাত হওয়া একটি সেক্স-টেপকে ‘ভাইরাল’ করে দেবার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করা চক্রকে টাকা দিতে ভালবুয়েনাকে ‘প্ররোচিত’ করেছিলেন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ভালবুয়েনাকে ‘ব্ল্যাকমেইলিং’-এ অভিযুক্তদের সাথে পরোক্ষ যোগসাজশের প্রমাণের কথাও আদালতে উপস্থিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ঐ চক্রের চারজনও আদালতে দোষী প্রমাণিত হয়েছে। ১৮ মাসের স্থগিত কারাদণ্ড থেকে শুরু করে আড়াই বছরের কারাবাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি হয়েছে তাদের।

 

কী হবে খেলোয়াড়ি জীবনের ভবিষ্যত? 

বিবিসির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, করিম বেনজেমার বিরুদ্ধে আনীত এবং প্রমাণিত এই অভিযোগ নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই রিয়াদ মাদ্রিদ শিবির বা স্পেনে। খেলোয়াড়ের ব্যক্তি জীবনকে তার ব্যক্তি-পরিসরেই সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষপাতী তারা। উপরন্তু করিম বেনজেমাকে ব্যালন ডি ‘অর জেতানোর পক্ষে শক্ত ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াল-সমর্থিত গণমাধ্যমগুলো।

এদিকে এ ধরনের অভিযোগের ব্যাপারে বেনজেমার নিজ দেশ ফ্রান্সের অবস্থান বেশ কঠোর। ঘটনাক্রমে এবারের ইউরোতে তিনি অংশ নিলেও তার আগে প্রায় ৬ বছর তিনি জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য ঘোষিত হয়েছিলেন। সেটিও অভিযোগ প্রমাণের আগেই! ফলে আদালতের স্বীকৃতির পর নিষেধাজ্ঞার খড়গ আবারও নেমে আসতে যাচ্ছে বেনজেমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে, তা সহজেই অনুমেয়।

যদিও বেনজেমার দাবি, ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সময়ে ফুঁসে উঠতে থাকা অভিবাসী-বিরোধী ভাবাবেগ পুরো উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ঘি ঢালছে। আলজেরিয়ান বংশোদ্ভুত মুসলিম হওয়ার বদলে যদি মূলধারার শ্বেতাঙ্গ ইউরোপিয়ান হতেন- তবে তার বিষয়টা অন্যভাবে দেখা হতো বলেও মনে করেন রিয়াল সুপারস্টার।

 

কী হয়েছিল এর আগে?

২০১৫ সালে মার্সাইলে এক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করেন ম্যাথিউ ভালবুয়েনা। নিজ ফোনের সকল তথ্য নতুন আরেকটি ফোনে আপলোডের দায়িত্ব দেন মার্সাইলের ঐ ব্যক্তিকে। সেই ব্যক্তিটিই ভালবুয়েনার ফোনে একটি সেক্স-টেপ খুঁজে পান। তারপর ঘটনাক্রমে আরও কয়েকজন যুক্ত হন তার সাথে। সকলে মিলেই ভালবুয়েনাকে সেক্স-টেপটি ‘পাবলিক’ করে দেয়ার হুমকি দেন। অন্যদিকে ভালবুয়েনাও উদ্যত হন আইনী ব্যবস্থা নিতে।

এদিকে ব্ল্যাকমেইলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, করিম বেনজেমার এক বাল্যবন্ধুকে দলে ভেড়াতে নাকি চেষ্টা করে তারা। পুলিশ করিম বেনজেমার ফোন ট্যাপ করে সেই বাল্যবন্ধুর সাথে একটি সন্দেহজনক কথোপকথন পান, যেখানে বেনজেমা বলেন, ও আমাদের সিরিয়াসলি নিচ্ছে না!

বেনজেমার জবাবে ফোনে সেই বন্ধু বলেন, আমরা এখানে একটা রফা করার চেষ্টায় আছি। সে (ভালবুয়েনা) যদি রাজি না হয়, তাহলে বরং ওকেই ‘পিরানহা’ (মানুষখেকো মাছ)-গুলোর সাথে লড়তে দাও, সেটাই ভালো হবে।

যদিওবা করিম বেনজেমার দাবি, জাতীয় দলে ঝামেলা হতে পারে বলেই সেসময়কার সতীর্থকে শুধুই কয়েকবার ‘সতর্ক’ করেছিলেন তিনি, এর বেশি নয়।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply