‘সার্বজনীন’ আইনে আপত্তি; ধর্ম অবমাননা-বিরোধী আইন চাইলো ভারতীয় মুসলিম আইন বোর্ড

|

সম্প্রতি ভারতে একীভূত তথা সার্বজনীন আইন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। মূলত ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত আইনগুলো রদ করার ব্যাপারে উঠেছে তোড়জোড়। তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক মূলত আবর্তিত হয়েছে ‘মুসলিম ব্যক্তিগত আইন’ নিয়ে।

সাধারণ আইনের সাথে শরীয়াহ আইনের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ এই আইনের বলে মুসলিমেরা পেতেন চার বিয়ে, একতরফা তালাকসহ বেশ কিছু বৈধতা, যা কিনা ভারতের অন্য গোষ্ঠীর জন্য বৈধ নয়। উল্লেখ্য, ১৯৩৭ সাল থেকে কোনোরূপ সংস্কার ছাড়াই টিকে আছে এই আইন।

এমন পরিস্থিতিতে সর্বভারতীয় মুসলিম ব্যক্তিগত আইন বোর্ড (এআইএমপিএলবি) সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে, যেন কোনোক্রমেই বিশেষায়িত আইন বাতিল করে একীভূত নাগরিক আইন কায়েম করা না হয়। মুসলিমদের বিরুদ্ধে একে ‘বিষাক্ত প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে অভিহিত করে এআইএমপিএলবির দাবি, ভারতের মতো বহু ধর্ম-বর্ণ-মতবৈচিত্রের দেশের পক্ষে একীভূত আইন উপযুক্ত সমাধান নয়।

একইসঙ্গে ইসলাম, নবী মুহাম্মদ (স.)-এর ‘অবমাননা’ ঠেকাতে আইন পাসের দাবি জানিয়েছে এআইএমপিএলবি। সামাজিকমাধ্যমে এ ধরনের পোস্টের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়। রোববার প্রায় ২০০ সদস্যের অংশগ্রহণে কানপুরে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এআইএমপিএলবি সম্মেলনে বক্তারা এসব বলেন।

বক্তারা বলেন, শিখ, হিন্দু সহ বিভিন্ন ধর্মে নবী মুহাম্মদের মহত্ত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। আবার ইসলামেও অন্য ধর্মের কাউকে গালি দিতে মানা করা হয়েছে। তবু অনেকেই প্রকাশ্যে নবী মুহাম্মদকে নিয়ে কটূকথা বলে যাচ্ছে, কিন্তু সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ধর্ম অবমাননা প্রসঙ্গে নবী মুহাম্মদ (স.) ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের প্রবর্তক বা মনীষীর নাম নিয়ে তাদের সমালোচনার ব্যাপারে কোনো বক্তাই মন্তব্য করেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়ায়।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply