ঢাবির হলে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

|

ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের তৃতীয় বর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাতে হলের দুই ছাত্রলীগ কর্মী সিফাত উল্লাহ ও মাহমুদুর রহমান ওরফে অর্পণ তাদের মারধর করেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। জানা গেছে এর আগেও, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে মারধরের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের এই দুই কর্মী। যদিও এই বহিষ্কারাদেশ পরে প্রত্যাহার করা হয়।

ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো. আরিফুল ইসলাম ও থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র তরিকুল ইসলাম। তারা জানান, গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ভোররাত চারটা পর্যন্ত সূর্য সেন হলের ৩৫১ নম্বর কক্ষে তাদের মারধর করেন সিফাত ও মাহমুদুর। আরিফুল ও তরিকুল তৃতীয় বর্ষে (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) অধ্যয়নরত। অন্যদিকে ছাত্রলীগের কর্মী সিফাত উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ ও মাহমুদুর ইংলিশ ফর স্পিকারস অব আদার ল্যাংগুয়েজেস বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।

ভুক্তভোগীরা জানান, ক্লাস-পরীক্ষার কারণে তারা বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও গেস্টরুমে অনিয়মিত ছিলেন। এর জেরে সিফাত ও মাহমুদুর একবার তাদের হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের সিট হল প্রশাসনের মাধ্যমে বরাদ্দ হওয়ায় সেটি তখন সম্ভব হয়নি। রোববার রাত আড়াইটার দিকে তাদের রুমে গিয়ে ঘুম থেকে তুলে সিফাত ও অর্পন ৩৫১ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে বেয়াদবির অভিযোগ তুলে তাদের গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তাদের দিকে রড-স্ট্যাম্প নিয়ে তেড়ে যান সিফাত ও মাহমুদুর। তখন সেখানে থাকা অন্যরা নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এরপর রড-স্ট্যাম্প ফেলে তাদের উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন সিফাত ও মাহমুদুর। অসুস্থ হয়ে ওই কক্ষেই শুয়ে পড়েন তারা।

রাত চারটার সময় তাদের দু’জনকে ওই কক্ষ থেকে বের হতে দিলেও সোমবার দুপুরের মধ্যে হল থেকে বের হয়ে না গেলে মেরে হলের পানির ট্যাংকের পেছনে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। রাতেই হল থেকে বেরিয়ে যান দু’জন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিফাত উল্লাহ সাংবাদিকদের কাছে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, রাজনীতি নষ্ট করার জন্যই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। সিফাত ও মাহমুদুর সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী ইমরান সাগরের অনুসারী বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইমরানের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পর্যায়ের ঘটনা। এর সঙ্গে ছাত্রলীগ বা তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

সূর্য সেন হলের প্রাধ্যক্ষ মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়া যমুনা নিউজকে বলেন, আমরা বিষয়টি দেখছি। তারা সবাই একই হলের শিক্ষার্থী। আশা করি বিষয়টি মিটে যাবে।

মারধরকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply