শেষ সাদা গণ্ডারটিও আর নেই

|

আরও দু’টি সাদা গণ্ডার থাকলেও সুদানই ছিল পৃথীবির একমাত্র জীবিত সাদা পুরুষ গণ্ডার। নিরাপত্তা বলয় ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যায় থাকা সুদান ৪৫ বছর বয়সে মারা গেছে।

প্রাণি সংরক্ষণ গোষ্ঠী ওয়াইল্ড এইড এই ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানায়, পশু চিকিৎসকদের একটি দল সুদানকে ইউথেনাইজ (যন্ত্রণাহীন মৃত্যু) করার জন্য সম্মত হয়। কেননা, আরোগ্য অযোগ্য নানাবিধ বার্ধক্য জনিত জটিলতা ভুগছিল।

কেনিয়ার ওল পেজেটা অভয়ারণ্যে থাকত সুদান। অবৈধ শিকারীদের হাত থেকে বাঁচাতে তাকে সার্বক্ষণিক পাহারা দিত সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী দল।

ওল পেজেটা অভয়ারণ্যের প্রতিনিধি এলোদি সামপিরি বলেন, “তার আকৃতি দেখে লোকজন ভয় পেলেও সে ছিল ভদ্র দৈত্য, তার ব্যক্তিত্ব ছিল চমৎকার।”

তিনি আরও বলেন, “গবেষকরা সুদানের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল (বংশগতি বিয়ষক উপাদান) সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছিল। বেঁচে থাকা অপর দুই নারী গণ্ডারের মধ্যে একটিতে ওই উপাদানগুলো ব্যবহার কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে প্রজাতিটি রক্ষার আশা করা যায়।”

ওয়াইল্ডএইড-এর প্রধান নির্বাহী পিটার নাইটস বলেন, “যদিও চীন ও ভিয়েতনামে শিংয়ের চাহিদা কমছে, তথাপি অবৈধ শিকারীরা গণ্ডার প্রজাতির জন্য হুমকি।”

এশিয়ায় প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে যে গণ্ডারের শিং বিভিন্ন ধরনের অসুখ সারাতে পারে। এতে অবৈধ শিকারীদের লোভের শিকার হয়ে পৃথিবী  থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে পুরো গণ্ডার প্রজাতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকের চেয়ে গণ্ডারের শিং দিন দিন আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

অবৈধ শিকারীদের হাত পশুদের রক্ষায় তাদের গায়ে রেডিও সিগন্যাল বসিয়েছে ওল পেজেটা অভয়ারণ্য কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অবৈধ শিকারীদের খোঁজ-খবর পেতে আশপাশের বসতিগুলোতে সাদা পোশাকের বনরক্ষীদেরও নিয়োজিত করেছে।

যমুনা অনলাইন: এফএইচ









Leave a reply