ধর্মের কারণে কাউকে আঘাত করা নিকৃষ্ট মানুষের কাজ: ভিরাট

|

ভিরাট কোহলি। ছবি: সংগৃহীত

মাঠে সাহসী আচরণ ও বক্তব্যের জন্য খ্যাতি আছে ভারতীয় অধিনায়ক ভিরাট কোহলির। তবে এবার মাঠের বাইরেই বোধহয় ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সাহসী কিছু কথা বললেন ভিরাট। মোহাম্মদ শামির পাশে দাঁড়িয়ে দলের ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রাখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, কেবল নিকৃষ্ট মানুষই ধর্মের কারণে কাউকে আঘাত করতে পারে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরাজয়ের পর অনলাইনে ভারতীয় উগ্রপন্থী দর্শকদের কাছ থেকে সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি। এরপর ভারতের সাবেক এবং বর্তমান ক্রিকেটারদের পাশে পান শামি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে অধিনায়ক ভিরাট কোহলিও দিলেন শক্তিশালী ও সাহসী কিছু বক্তব্য। তিনি বলেন, মানুষের পক্ষে সবচেয়ে বাজে যে কাজগুলো করা সম্ভব তার মধ্যেও সবার আগে আসবে ধর্মের কারণে কাউকে আঘাত করা। এই কাজ কেবল নিকৃষ্ট পর্যায়ের মানুষই করতে পারে। শামির পাশে আমরা আছি। ২০০ পার্সেন্ট সমর্থন আছে তার প্রতি। তাকে যারা আঘাত করেছিল, তারা আরও শক্তি সঞ্চয় করে আসতে পারে। তবে তাতে কিছুই হবে না। আমাদের দলে সবার মাঝে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ থেকে যাবে অপরিবর্তিত।

শামির পাশেই আছেন ভিরাট। ছবি: সংগৃহীত

ভিরাট আরও বলেন, অনেকদিন ধরেই বুমরার সাথে শামি আমাদের প্রধান বোলার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তাকে যারা আক্রমণ করেছে তাদের প্রতি বলতে চাই, সঙ্গত কারণেই আমরা মাঠে খেলি এবং মেরুদণ্ডহীন কিছু মানুষ কেবল বসে থাকে জঘন্যভাবে অন্যকে আঘাত করার জন্য। এই অমেরুদণ্ডী প্রাণীরাই সামনে এসে কিছু বলার সাহস কোনোদিন অর্জন করতে পারবে না বলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লুকিয়ে থাকে এবং অন্যদের নিয়ে রসিকতা করাই এদের জীবনে বিনোদনের একমাত্র উৎস। আর এটাই নিকৃষ্ট ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট। ভারতীয় দলে আমরা সবাই ব্যক্তিগতভাবে জানি যে, আমরা কী করতে চাই এবং এবং মানসিক শক্তি দ্বারা আমাদের পক্ষে কী করা সম্ভব। কিন্তু পরিচয়বিহীন সেই নিম্ন পর্যায়ের মানুষদের পক্ষে এসব অনুধাবন করা কখনোই সম্ভব হবে না। ইন্টারনেটে যা হচ্ছে তা হতাশা থেকে উৎসারিত এবং আত্মবিশ্বাসহীন মানুষের কাজ। খেলার প্রতি অনুরাগও এদের নেই। কেবল অন্যদের প্রতি চড়াও হওয়াতেই তাদের আনন্দ।

ভিরাট আরও বলেন, দল হিসেবে আমরা জানি কীভাবে একতাবদ্ধ হয়ে একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা কেমন ব্যাপার তা দলের বাইরের মানুষ একদমই জানে না। তারা কেবল জানে, ভারত কখনোই হারতে পারে না। কিন্তু এসব ধারণায় আমাদের কিছুই যায় আসে না। আমরা মাঠে খেলি এবং জানি, ক্রিকেটটা কীভাবে খেলতে হয়। আমরা এটাও জানি যে, মতামত প্রকাশের অধিকার আছে সবারই। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনোই ধর্মের নামে বৈষম্যের কথা ভাবতেও পারি না। ধর্ম খুবই পবিত্র এবং ব্যক্তিগত বিষয়। আর সেটা সেভাবেই রাখা উচিত।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply