মানুষ হতে চাই, শুদ্ধ মানুষ: জন্মদিনে বাঁধন

|

আজ অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের জন্মদিন। যমুনা টেলিভিশনের পক্ষ থেকে বাঁধন'কে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধনের ৩৮তম জন্মদিন আজ। বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া’ চলচ্চিত্রের প্রথম দফার শ্যুটিং শেষে আজই দেশে ফেরেন তিনি। তিনি যখন বাসার পথে তখন তার সাথে কথা হয় যমুনা টেলিভিশনের। এ সময় বর্তমান প্রজেক্ট খুফিয়াসহ নিজের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন বাঁধন।

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের বর্তমান ব্যস্ততার ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঁধন বলেন, গতকাল পর্যন্ত খুফিয়ার শ্যুটিং ছিলো। আর গতকালই দেশে ফেরার কথা থাকলেও ওরা আমার জন্য সারপ্রাইজ প্ল্যান করায় গতকাল আর আসা হয়নি। আজকে আমি দেশে চলে আসায় এখন ওরাই সারপ্রাইজড।

খুফিয়া নিয়ে জানতে চাইলে বাঁধন বলেন, গল্প বা আমার চরিত্র নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাইছি না। তবে শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতা চমৎকার। ওদের কাজের ধরন খুবই ভিন্ন আর ওদের সবকিছুই আসলে আমাদের চেয়ে একধাপ এগিয়ে। সবচেয়ে ভাল লেগেছে ওদের ব্যবহার, বিশেষ করে পরিচালক ভিশাল ভরদ্বাজের। আর ভিশাল অসম্ভব ভালো একজন মানুষ। তার ভালো মানুষিটা শ্যুটিং ইউনিটেও রিফ্লেক্ট করে। যেহেতু বাংলাদেশ থেকে গিয়েছি, তারা আমাকে কখনও ফিল করতেই দেননি যে আমি এতদূরে কাজ করতে গেছি। আর কখনও ওদের সাথে কাজ করা হবে কি না জানি না, তবে ওদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।

শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতার মাঝেই বাঁধন বলেন বিখ্যাত বলিউড অভিনেত্রী টাবু’র কথা। বাঁধন বলেন, আমার বেশিরভাগ দৃশ্য ছিল টাবু’র সাথে, ওর কথা আমাকে আলাদা করে বলতেই হবে। আমি টাবু’র সাথে কাজ করে মুগ্ধ।

ভারতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে বাঁধন বলেন, দেখুন ভালো কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসাটাও সৌভাগ্যের। ওরা খুবই কো-অপারেটিভ, আর বিশেষ করে বলতে হবে বিশালের কথা, উনি অসাধারণ একজন ডিরেক্টর।

এর আগে জানা গিয়েছিল যে ‘খুফিয়া’তে বাংলাদেশকে বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঁধন বলেন, এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাই না এ ব্যাপারে। আমি বিশাল ভরদ্বাজকে বিশ্বাস করে কাজটা করেছি, খুফিয়াতে আমার চরিত্রটিও আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। গল্পটাও খুবই ইন্টারেস্টিং লেগেছে। গল্পটা যে বই থেকে নেয়া সেটা চাইলে পড়ে দেখতে পারেন। আমি এর থেকে বেশি কিছু আপাতত বলতে চাচ্ছি না।

নিজের অভিনয় নিয়ে বাঁধন বলেন, দেখুন আমি খুব ভাল অভিনেত্রী নই, আমি আসলে অভিনয়টা জানিই না। আমি সবকিছু পারবো এমনও কিন্তু না। হ্যা কিছু চরিত্রের সাথে হয়তো মানিয়ে নিতে পারবো, তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন ভাল ডিরেক্টর ও ভাল গল্পের এবং অবশ্যই ভাল চরিত্রের প্রয়োজন হবে। আর ডিরেক্টরকে বিশ্বাস করার ব্যাপারটাও গুরুত্বপূর্ণ, যেটা আমি সাদকে করতে পেরেছি, বিশাল ভরদ্বাজকে করতে পেরেছি। এছাড়া আমি পিপলু ভাইয়ের সাথেও কাজ করেছি, ওনার সাথে কাজ করেও আমার ভীষণ ভাল লেগেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বাঁধন বলেন, আমার ওভাবে তেমন কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নাই। এতদিন ডিসেম্বর পর্যন্ত শিডিউল ছিল এখন হয়তো সামনে জুন-জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত থাকবো। সেটাও খুব বেশি নিশ্চিত না, কারণ জীবন খুবই অনিশ্চিত একটা ব্যাপার। শুধু এটা বলবো যে, আমি আমার বর্তমানটাকে কাজে লাগাতে চাই, বর্তমানকে উপভোগ করতে চাই। নিজেকে ভালোবাসতে চাই, নিজেকে একজন শুদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, এটার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অল্প কিছু দিন হলো। কারণ আমি আমার জীবনে মূল্যবান ৩৮টি বছর নষ্ট করেছি সমাজের চোখে “তথাকথিত আদর্শ নারী” হওয়ার জন্য। আমার শুদ্ধ মানুষ হওয়ার প্রসেস চলছে মাত্র ৪ বছর হলো। এটাই আমার পরিকল্পনা যে, আমি মানুষ হতে চাই, শুদ্ধ মানুষ।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply