বেকার দক্ষিণ আফ্রিকানদের রিহ্যাব যেন টিম ম্যানেজমেন্ট: মাশরাফী

|

ছবি: সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর প্রশ্ন উঠেছে টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর বোলিং পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে। তবে বাংলাদেশের সাবেক আইকনিক অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা আঙুল তুলেছেন টিম ম্যানেজমেন্টের উপর। বলেছেন, এখন টিম ম্যানেজমেন্ট দেখলে মনে হয় একটা রিহ্যাব সেন্টার, যেখানে সাউথ আফ্রিকার সব চাকরি না পাওয়া কোচেরা একসাথে আমাদের রিহ্যাব সেন্টারে চাকরি করছে। এদের বাদ দেয়া আরও বিপদ, কারণ চুক্তির পুরো টাকাটা নিয়ে চলে যাবে। তাহলে দাঁড়াল কী, তারা যতদিন থাকবে আর মন যা চাইবে, তাই করবে।

শ্রীলঙ্কা ম্যাচে সাকিব-সাইফুদ্দিনদের আঘাতে লঙ্কানরা যখন ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছে, তখন স্পেশালিস্ট বোলারদের বাদ দিয়ে মাহমুদউল্লাহ নিজে যেমন করেছেন বোলিং, তেমনি বল তুলে দিয়েছেন আরেক পার্ট টাইমার আফিফের হাতে। এ দুইজনের ৩ ওভারে উঠেছে ৩৬ রান। অথচ ৩ ওভারে ১৭ রান খরচায় ২ উইকেট নেয়া সাকিব আল হাসানের এক ওভার তো ছিল ম্যাচ শেষেও অব্যবহৃত। আর ডেথ ওভারে দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র মোস্তাফিজুর রহমানও করেছেন ৩ ওভার। সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলারদের শেষ পর্যন্ত রেখে দিয়ে তা কাজেই লাগাতে না পারা অবশ্যই ক্রিকেটীয় দর্শনে এক বড় ভুল।

তবে শুধু মাহমুদউল্লাহর ভুল দেখছেন না মাশরাফী। পানি পানের বিরতিতে মাঠে কোচও প্রবেশ করতে পারেন আর ১০ ওভার শেষে ছিল সেই বিরতি। স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউট বা কৌশলগত বিরতিতেও মাঠে এসেছিলেন কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোক। তবে অধিনায়কের সাথে তিনি কৌশলগত কোনো পরিকল্পনা করেছিলেন কিনা তা জানা যায়নি। মাশরাফীর প্রশ্ন, কোচ কি তার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করছেন? ফেসবুকে মাশরাফী তার ব্যক্তিগত প্রোফাইলে লিখেছেন, ম্যাচের ৯.৪ ওভার ৭৯ রানে ওদের ৪ উইকেট, ঠিক তখন আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ড্রিংকস ব্রেক। তার মানে কোচ মাঠের ভিতর আসবে। আমাদের কোচও এসেছিল। তাহলে উনি এসে রিয়াদের (মাহমুদউল্লাহ) সাথে কি কথা বলেছিল? যদি বলে থাকে, তাহলে কি সব দায় রিয়াদের? মানলাম, অন ফিল্ড ক্যাপ্টেন’স কল ইজ ফাইনাল। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ক্রাঞ্চ মোমেন্টে কি কোচ ডিসকাশন করে না? ক্যাপ্টেন তখন বিভিন্ন বিষয়ে চাপে থাকে। তার প্ল্যান কী, এটা কি জানতে চেয়েছিল কোচ? আর যদি কথা হয়ে থাকে, তাহলে কি কোচের প্রেস হ্যান্ডেল (প্রেস কনফারেন্সে) করা উচিত ছিল না? কারণ রিয়াদের ভুলটা ধরা হয়েছে ঠিক ঐ সময় থেকেই।

মাহমুদউল্লাহর পাশে দাঁড়িয়ে মাশরাফী আরও লিখেন, ১১ নাম্বার ওভার করে মেহেদি, দলের মূল বোলার। ১২ নাম্বার ওভার করে রিয়াদ, সম্ভবত ৫/৬ রান দেয় (৫ রান)। ১৩ নাম্বার ওভার করে আফিফ, যে ওভারে ১৫ রান হয়। কিন্তু রিয়াদ যে চিন্তা থেকে আফিফকে এনেছিল, সেটাতেও কিন্তু সুযোগ তৈরি হয়েছিল। যদি সুযোগ হাতছাড়া না হতো, তাহলে আমরা বলতাম দারুণ ক্যাপ্টেন্সি। ক্যাচ মিসের অযুহাত না দিলেও এটাই সত্য, ক্যাচ মিস এই প্রথম হয়নি। আর লিটন দলের সেরা ফিল্ডারদের একজন। কোনো কোনো সময় ভাগ্যটাও সাথে থাকতে হয়। তাহলে স্রেফ দল সফল না হওয়ার কারণে, এই দুজনকে (মাহমুদউল্লাহ ও লিটন) এতটা তুলাধুনা করা কতটা ঠিক, আমি শিওর না। ঠিক এ কারণেই আমার মনে হয়েছে, যদি কোচ এ বিষয়ে রিয়াদের সাথে কথা না বলে থাকে, তাহলে তো ব্রেকের সময় দলের টিম বয়কেই মাঠে পাঠিয়ে দেয়া যায় হাই-হ্যালো করতে, কোচের আর প্রয়োজন কী?

কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর মনোযোগের কেন্দ্র দলের চেয়েও এগিয়ে তার স্টাফরা, এমন ইঙ্গিত দিয়ে মাশরাফী লিখেছেন, হেড কোচ এক এক করে নিজ দেশের সবাইকে আনছে, এরপর যারা অস্থায়ীভাবে আছে, তাদেরও সরাবে আর নিজের মতো করে ম্যানেজমেন্ট সাজাবে। তাও মেনে নিলাম কিন্তু রাসেল (হেড কোচ) ম্যানেজমেন্টের জন্য যেভাবে স্টেপ আপ করে, মূল দলের জন্য তাহলে লুকিয়ে কেন? কেন তামিম, মুশফিক, রিয়াদ ভালো থাকে না? এটা ঠিক করা কি তার কাজ না?

মাশরাফীর মতে, দেশের ক্রিকেট ঘিরে উন্মাদনার বিপরীতে দল ভালো করার জন্য যেমন পরিবেশ তাদের দেয়া দরকার সেটা ক্রিকেটাররা পাচ্ছেন না। তিনি লিখেছেন, আমি আমার ক্যাপ্টেন্সির শেষ প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলাম, এই দলের কোচ যে-ই হোক না কেন, এখন এই দলের রেজাল্ট করার সময়, এক্সপেরিমেন্টের না। কোচের চাহিদা মেটানোর আগে আমাদের দেশের স্বার্থ আগে দেখতে হবে। কারণ, ক্রিকেট দেশের মানুষের কাছে এখন স্রেফ খেলা নাই, রীতিমতো আবেগে পরিণত হয়েছে।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply