এতকিছুর পরেও চুল কেটে দেয়া শিক্ষেকের শাস্তি হচ্ছে না কেন?

|

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একে একে ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনকে অভিযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর একটি সিন্ডিকেট মিটিং হলেও তাতে ওই শিক্ষকের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়েই মিটিং মুলতবি করা হয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও আন্দোলন শুরু করেছেন। তারা ফারহানাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবিতে তিনদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন আন্দোলন করে তার শাস্তির জন্য দাবি করতে হচ্ছে?

গতকাল (২৪ অক্টোবর) সকালে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের বিসিক মোড় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন ও কান্দাপাড়া এলাকায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বাইরে অবস্থান নেন তারা। এসময় দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রারসহ ৩০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে ৮ ঘণ্টা পর পুলিশের সহযোগিতায় মুক্ত হন অবরুদ্ধরা।

গতকাল আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শামীম হোসেন বিষপান সকরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। উপস্থিতরা তাকে উদ্ধার করে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এছাড়া একই বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবিদ হাসান ব্লেড দিয়ে হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে অন্যরা তাকে নিবৃত্ত করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ বলেন, রেজিস্ট্রার নিজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছি।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বষের্র ফাইনাল পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা সব পরীক্ষা বর্জন করে অ্যাকাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফারহানাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এই ঘটনার তদন্তের জন্য রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌসকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, এছাড়া ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি তদন্ত দল বিষয়টি তদন্ত করতে ক্যাম্পাসে আসবে। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply